দাম্পত্য জীবন সুখী করার ১৮ টি কৌশল জেনে নিন।

100
দাম্পত্য জীবন

দাম্পত্য জীবন সুখের করবেন কিভাবে ? জেনে নিন দাম্পত্য জীবন সুখী করার কিছু টিপস। মানুষের জীবনে বয়সের একটা সময়ে গিয়ে সবাইকে বিয়ের পিড়িতে বসতে হয়। একজন পুরুষ এবং একজন নারী উভয়ের পরিবারের পছন্দের মিল হবার পর একটি সুন্দর দিন ক্ষণ ঠিক করে বিবাহের মাধ্যমে শুরু হয় দুটি নতুন জীবনের পথ চলা। এটি সামাজিক এবং পারিবারিক পবিত্র একটি বন্ধন।

আমরা সাধারণত অনেক স্বপ্ন নিয়ে ঘর বাঁধি। সংসার শুরু করি। আমাদের স্বপ্নের মধ্যে থাকে অনেক আশা প্রত্যাশা আর ভালোবাসার দোলা। দাম্পত্য জীবনের পথ চলায় সবাই এই শান্তি সুখটাকে প্রত্যাশা করেন সবসময়। কিন্তু অনেক পরিবারেই সেটা সম্ভব হয় না।

অনেক পরিবারেই সেই শান্তি আর ভালোবাসার অভাব দেখা যায়। কিছু পরিবারে অশান্তি টানাপোড়েন শুরু হয় সংসারের শুরু থেকেই। আবার কিছু পরিবারে হয়তো কিছুদিন পরে বা দীর্ঘদিন পথ চলতে চলতে কোন একটা ঘটনা থেকে শুরু হয় দাম্পত্য সমস্যা বা কলহ।

দাম্পত্য জীবন এ কিন্তু এই সমস্যাটি আমাদের কারোরই কাম্য নয়। আমাদের সংসারের সুখ শান্তি নষ্ট হোক এটা আমরা কেউই কামনা করিনা। কিন্তু সেটা যখন কখনও কখনও সম্ভভ হয়না। তখন স্বামী-স্ত্রী ও যখন একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। দুজনের মধ্যে বিশ্বাস আর ভালবাসার অভাব বোধ করতে থাকে। তেমনি সন্তানদের মধ্যেও এই প্রভাব এই সমস্যাটি দেখা যায়।

এজন্য দাম্পত্য জীবন সুখের করার জন্য আমরা যদি কিছু কিছু কৌশল জানি বা শিখতে পারি তাহলে সেটা অনুশীলন করলে আমরা আমাদের সংসারকে ভালবাসার সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে চলতে পারব সারা জীবন। তাহলে চলুন জেনে নেই কিভাবে আমরা আমাদের দাম্পত্য জীবন কে সুখের করব।

১। মানসিক সম্পর্ক গড়ে তুলাঃ আমরা যখন বিয়ের মাধ্যমে একটি পারিবারিক বন্ধন গড়ে তুলি তখন প্রথমেই যে বাঁধন পড়ে যায় সেটা হলো সকলের সামনে কবুল বলা আর কাজীর রেজিস্টারে উভয়ের স্বাক্ষর করার মাধ্যমে। এগুলো হলো আইনগত বন্ধন বা লিগ্যাল রাইটস। এর সাথে সাথে একটি ধর্মীয় এবং সামাজিক বন্ধনও কিন্তু প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।

আর যেটা হয় না সেটা হল সাইকোলজিকাল বন্ধন। এটি হতে অনেক সময় লাগে এবং এটি অনেক ধৈর্যের সাথে আস্তে আস্তে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতেই একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে, আমরা এটাকে কখনোই জাম্পিং করবো না বরং আমরা এটাকে স্টেপিং করব। অর্থাৎ ধীরে ধীরে আমরা পা রাখব।

দাম্পত্য জীবন এর প্রথমে স্বামী-স্ত্রী দুজন দুজনকে একে অপরকে চিনব, জানব, বুঝব, উভয়ের পরিবারকে বুঝব। তারপর ধাপে ধাপে এগুতে পারলেই সবার সাথে আমাদের এই সাইকোলজিকাল বাঁধনটি গড়ে উঠবে। এবং সাথে সাথে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও তৈরি হয়ে যাবে দুজনের মধ্যে ও দুটি পরিবারের মধ্যে।

কোন অবস্থাতেই যখন কেউ কোন বন্ধুত্বর সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারে না। ঠিক তেমনি একটি সম্পর্ক গড়ে উঠবে যখন আমরা প্রথম থেকেই একটি শক্ত বাঁধন এর দিকে আগাব। তখন কিন্তু দুটি পরিবারের বন্ধন হয়ে উঠবে অনেক মজবুত আর দৃঢ়।

২। দুজন দুজনকে নিজের মত পরিবর্তন করতে না চাওয়াঃ অনেক পরিবারেই দেখা যায় হাজব্যান্ড চায় তার স্ত্রী একদম পুরোপুরি তার পরিবারের মতো হয়ে যাক। আবার অনেক পরিবারে স্ত্রী চায় স্বামী পুরোপুরি পরিবর্তন হয়ে তার বাধ্যগত থাকুক সবসময়। তার পরিবারের হয়ে যাক। উভয়ের মধ্যে এই ধারণাটা রাখা একটি মারাত্মক রকম ভুল ধারণা।

কারণ এর ফলে যাকে পরিবর্তন করা হচ্ছে তার আইডেন্টিটি নষ্ট হয়ে যায়। তার ইন্ডিভিজুয়ালিটি তার স্বতন্ত্রবোধ যেটা থাকে সেটা নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে সেই মানুষটা কিন্তু মনে মনে কষ্ট পায়। তারপর ধীরে ধীরে তার সকল আনন্দ নষ্ট হতে থাকে। সুখ শান্তি নষ্ট হয়ে যায়।

তখন সেই পরিবারটি মোটেই শান্তির হয় না। কাজেই আমরা লক্ষ্য রাখবো বিয়ে করে যাকে ঘরে আনছি কিংবা যেই মেয়েটা একটা হাজবেন্ড পাচ্ছেন তাকে মোটেই পুরোপুরি পরিবর্তনের দিকে না নেয়া।

৩। ভালবাসার প্রকাশ ঘটানোঃ দাম্পত্য জীবন সুখের করতে আমরা বেশী করে একে অপরের মাঝে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাব। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছি যে, আমরা মনে করি আমিতো তাকে যথেষ্ট ভালোবাসি। তাই বলে এসবের বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর কি আছে। আর ভালই যদি না বাসি তাহলে একসাথে আছি কি করে ? এই টা কখনই মনে করা যাবেনা।

প্রকৃতপক্ষে একটি মেয়ে বা একজন স্ত্রী চায় তার স্বামী কিছুক্ষণ তার হাতটা ধরে বসে থাকুক, তাকে জড়িয়ে ধরুক। অফিসে যাওয়ার সময় যেন তাকে একটু আদর করে যায়। রাতে ঘুমের ঘোরে ভয় পেয়ে ঘুম ভেঙ্গে গেলে তার হাজবেন্ড যেন তাকে জড়িয়ে ধরে বসে থাকে। অভিমান করলে ভালোবাসা দিয়ে তার মান ভাঙাক। একটু কেয়ার করুক ইত্যাদি।

সাধারণত এই প্রত্যাশাগুলিই একজন স্ত্রী তার হাজবেন্ডের কাছ থেকে প্রচন্ড রকমের হয়ে থাকে। একজন স্ত্রীর প্রতি তার স্বামী ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ করুক এটাই কামনা থাকে সব সময়। তেমনি একজন স্ত্রীরও তার হাজবেন্ডের মত একই বহিঃপ্রকাশ থাকা জরুরী। তাই দুজনের মধ্যে যথেষ্ট পরিমানে ভালোবাসার প্রকাশ থাকতে হবে।

৪। ঝগড়া-বিবাদঃ দাম্পত্য জীবন কে সুখী করার জন্য আমাদেরকে লক্ষ্য রাখতে হবে যত কম ঝগড়া-বিবাদ বা রাগ করা যায় ততটাই সংসারের জন্য মঙ্গল। প্রতিটি মানুষের মধ্যেই রাগ অভিমান আছে এবং সবসময় থাকবে।

দাম্পত্য জীবনে যে কোনো কাজে বা টেনশনে রাগ আসতেই পারে। তাই বলে দুজন দুজনের সাথে সহজেই রাগ করা যাবে না। রাগ আসলেও তা দমন করার চেষ্টা করতে হবে। এটা একজন আরেকজনকে বুঝারও একটা ব্যাপার আছে। দেখা গেল একজন রাগ করেছে তো অন্যজন যেন তার সাথে সাথে তিনিও রাগ না করেন।

কোনো সহিংসতা যেন না ঘটে এটার জন্য আমাদেরকে Anger Management করে চলতে হবে। রাগকে দমন করার চেষ্টা করতে হবে। তার মানে হল কারো যদি বেশি Anger বা রাগ থাকে তাহলে প্রয়োজনে একজন ভাল সাইকোলজিস্টের সাহায্য নিতে পারেন। তাহলে দুজনের মধ্যে ঝগড়াঝাটি এবং সহিংসতা অনেক কমে আসবে যদি রাগের ব্যাবহার না হয়।

৫। পরকীয়া প্রেমঃ দাম্পত্য জীবন কে অসুখী করার জন্য অন্যতম একটি কারণ হলো পরকীয়া প্রেম। কেউ যেন এই পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে না যান সেদিকে দুজনেরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নিজেদের মধ্যে অশান্তি হচ্ছে বলে যে পরকীয়া শুরু করতে হবে সেটা কোন সমাধান হতে পারে না।

স্বামী স্ত্রীর মত পরম বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অন্য কোন পরকীয়ার মধ্যে থাকতে পারেনা। পরকীয়ার মধ্যে যেন কেউ না জড়িয়ে পড়েন সেটা লক্ষ্য রাখতে হবে। যদি এ ধরনের প্রবণতা থেকে কেউ সরে আসতে না পারেন তাহলে বুঝতে হবে তার একজন মানসিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। 

৬। আয় বুঝে ব্যয়ঃ ইদানিং দেখা যায় স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই জব করছেন। বিশেষ করে শহরে যারা বসবাস করছেন। আবার কোন কোন সংসারে শুধু স্বামী নিজেই আয় করেন। যেই রোজকার করুক না কেন আপনাকে আপনার ইনকাম বুঝে খরচ করতে হবে। দাম্পত্য জীবন সুখের করতে আয় বুঝে খরচ করা জরুরী।

যেমন- আপনার যা ইনকাম তার থেকে বেশি খরচ করে ফেলেছেন। দেখা গেল আপনার একটা জিনিস পছন্দ হয়েছে। আপনি তখন অন্য কারো কাছ থেকে ধার করে টাকা এনে সেটা কিনে নিয়ে আসলেন। এভাবে কিন্তু ধীরে ধীরে আপনার দেনার পরিমাণ বেড়ে যাবে। আবার এমন একটা কিছু কিনলেন যেটা আপনদের কোন দরকার ছিলনা। এসব বিষয় পরবর্তীতে সংসারে অশান্তি ডেকে আনে।

আবার স্ত্রী এমন একটা বায়না করে বসে থাকল যেইটার মূল্য তার স্বামীর আয়ের থেকে অনেক বেশী। সেটা কখনও করা যাবে না। প্রয়োজনে এই বায়না করার আগে স্বামীর সাথে শেয়ার করতে পারেন। তাই বলে মন খারাপ করে বসে থাকা একদমই করা যাবে না। এভাবেও দাম্পত্য জীবনে অশান্তির সৃষ্টি হয়।

৭। পারিবারিক সিদ্ধান্তঃ পারিবারিক সিদ্ধান্তগুলো সবসময় একসাথে নেয়ার চেষ্টা করুন। সেটা ছেলে মেয়ের ব্যাপারে হোক বা অন্য কোন বিষয় হোক না কেন। আপনারা সিদ্ধান্তগুলো একসাথে নিবেন। একক সিদ্ধান্ত কখনোই মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না।

একজন সিদ্ধান্ত নিবেন আর অন্য জনের উপর চাপিয়ে দিবেন। তাহলে কিন্তু সংসারে সুখ হবে না। উভয় পরিবারের বিশেষ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে গেলে যেন স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই বিষয়গুলো আগে থেকেই জানা থাকে।

যেমন স্ত্রীর পরিবারে কোনো পারিবারিক সিদ্ধান্ত যেন স্বামীর নলেজে থাকে বা স্বামীর পরিবারের কোনো সিদ্ধান্ত স্ত্রীর জানা থাকে। প্রয়োজনে দুজন দুজনকে শেয়ার করা।

ধরুন কোন বিষয় একজন হঠাৎ করে শুনলেন সেটা তাকে পূর্বেই বলে রাখতে পারতেন। তখন কিন্তু শুনে তার মন খারাপ হতে পারে। সংসার করার ক্ষেত্রে এটা খেয়াল রাখতে হবে। তাহলে দাম্পত্য জীবন এ পারিবারিক কলহ অনেক কম হবে।

৮। খোলামেলা আলোচনাঃ সংসার সুখের করার জন্য দুজনে একসাথে কোন বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলাপ আলোচনা করে তারপর করবেন। অর্থাৎ Free Flow Of Information যেটাকে বলা হয়।

নিজেদের মধ্যে গল্প গুজব করা, সংসারের নানা বিষয় নিয়ে আলাপ করা, যে কোনো প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করা এই বিষয়গুলি দুজনের মধ্যে থাকতে হবে। শেয়ার করতে হবে হবে উভয়ের মাঝে। এটা আপনাদের দাম্পত্য জীবনকে অনেক বেশি সুখ এনে দিবে।

৯। ক্ষমা করে দেয়াঃ দাম্পত্য জীবন সুখের করার জন্য আরেকটি বিষয় হলো ক্ষমা করে দেয়া। নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য বা ঝগড়া হলে বেশিদিন সেটা পুষে না রেখে ক্ষমা করে দিন বা ক্ষমার চোখে দেখুন। তাহলে দেখবেন অন্যজন কতটা আনন্দিত হয়।

দেখা গেল স্বামী-স্ত্রী কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন। তখন বাচ্চাদের দিয়ে ইঙ্গিত করে করে কাজ করছেন। মানে নিজেরা সরাসরি কথা বলছেন না। এগুলো করা যাবেনা। তাই ক্ষমা করুন একজন অন্যজনকে। যিনি আগে ক্ষমা করবেন বা যিনি আগে এগিয়ে আসবেন তিনি মহত্ত্বের পরিচয় দিলেন। কখনো বিছানা আলাদা করবেন না বা খাট আলাদা করবেন না।

১০। যৌন জীবনঃ দাম্পত্য জীবনকে সুখী করার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বিষয় হলো যৌন জীবন। এই যৌন জীবনকে দুজনে স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করুন। যদি কখনো কোনো সমস্যা দেখা দেয় তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন। আর যদি মানসিক কোন সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে মানসিক ডাক্তার দেখাবেন।

অনেক সময় একজন আরেকজনকে দোষারোপ করতে দেখা যায়। এই একজন আরেকজনকে দোষারোপ করা থেকে বিরত থাকবেন। উত্তেজিত না হয়ে স্বাভাবিক যৌন জীবন পরিচালনা করুন। দুজনের প্রতি বিশ্বাস রাখুন। দেখবেন আপনার দাম্পত্য জীবন কত সুখের আর কত মধুর হয়ে গেছে।

১১। প্রশংসা করুনঃ দাম্পত্য জীবন সুখী করার জন্য আরেকটি পয়েন্ট হল একজন আরেকজনের প্রশংসা করা উৎসাহিত দেওয়া। ধরুন আপনার স্ত্রী আপনাকে এক কাপ কফি বানিয়ে দিয়েছে। আপনি কফিতে চুমুক দিয়েই সুন্দর করে তার প্রশংসা করতে পারেন।

এক্ষেত্রে স্ত্রী যদি শুরুতেই স্বামী কিভাবে কফি খেতে পছন্দ করেন সেই টেকনিকটা জেনে যদি কফি বানান তাহলে আরো ভালো হয়। শুধু কি স্ত্রী হাজব্যান্ডকে কফি বানিয়ে খাওয়াবেন ? হাজব্যান্ড নিজেও তো মাঝে মাঝে স্ত্রীর জন্য বানাতে পারে। তাহলে কি হবে দুজনের মধ্যে সম্পর্কটা আর একটু রোমান্টিক হয়ে উঠবে।

আবার দেখা গেল একজন হাজব্যান্ড তার স্ত্রীর জন্য ফুল নিয়ে এসেছে। তখন স্ত্রীর কর্তব্য হলো সেই ফুলের সংখ্যা বা মূল্য দিয়ে তার বিচার না করে তাকে ধন্যবাদ দেওয়া তাকে প্রশংসা করা।

তার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ এর দিকে নজর দিতে হবে। আপনি যদি সংসারের মধ্যে প্রশংসার সংস্কৃতি তৈরি করে তুলতে পারেন তাহলে দেখবেন যে সন্তানদেরও মধ্যেও আপনি প্রশংসার সংস্কৃতি দেখতে পাবেন।

১২। পছন্দকে গুরুত্ব দেয়াঃ দাম্পত্য জীবনে এটা খুবই প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। সবসময় একজন আরেকজনের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একটি মেয়ে এবং আরেকটি ছেলে দুজনের পছন্দ দুই রকম হবে এটাই স্বাভাবিক। প্রত্যেককেই তাদের পছন্দের মূল্যায়ন করতে শিখতে হবে।

অনেক সময় দুজনের পছন্দ কিন্তু মিলেও যায়। আর যদি না মিলে তাই বলে মন খারাপ করা যাবে না। বরং দুজনেই যদি তাদের পছন্দগুলো আগে থেকেই জেনে নিয়ে শুরু করেন তাহলে আরো ভালো হয়।

দেখা গেল আপনার স্ত্রী কোন একজন লেখকের এর বই পড়তে পছন্দ করেন। আপনি তাকে কোন একটি বিশেষ দিনে সেই লেখক এর বইটি উপহার দিলেন। একজন স্ত্রী ও হাজবেন্ডের জন্য যদি এটা করেন তাহলে সংসার সুখী হতে আর কি লাগে বলুন ?

১৩। অল্পতে সন্তুষ্ট থাকাঃ অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকতে চেষ্টা করুন শান্ত থাকুন। অতিরিক্ত কোনো কিছুই মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। দুজনের চাহিদাগুলোকে যেন দুজনের সামর্থের মধ্যে রেখে সংসার চালাতে পারেন সেই দিকে খেয়াল রাখবেন। মনে রাখবেন আপনাদের সন্তানেরাও কিন্তু আপনাদের এই আচরণগুলো ফলো করবে এবং তাদের মধ্যেও এর প্রভাব পড়বে। তাই সংসার সুখী রাখতে এই বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।

১৪। শ্বশুরবাড়ির সাথে সম্পর্কঃ দাম্পত্য জীবনকে সুখী রাখার জন্য উভয়কেই তাদের শ্বশুরবাড়ির সাথে ভালো সম্পর্ক রাখা খুব জরুরি। আপনি স্বামী হিসেবে শুধু স্ত্রীর সাথে কিংবা স্ত্রী হিসেবে শুধু স্বামীর সাথে সম্পর্ক রাখবেন সেটা করা যাবে না।

দুই পরিবারের সাথেই একটা সু-সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। তাদের সুখ দুঃখের সাথী হতে হবে। আপনি জব করার জন্য শ্বশুর বাড়ি যেতে পারছেন না সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু তাদের সাথে যোগাযোগ করা, ফোন করে তাদের খোঁজ খবর রাখা।

এগুলো করলে আপনাদের সংসার, আপনাদের দাম্পত্য জীবন দেখবেন কত সুন্দর আর কত সুখের হয়েছে। দুটো পরিবারের মধ্যে একটা সুন্দর বন্ধন যেন থাকে সেটা বজায় রাখতে হবে।

১৫। শ্বশুর-শাশুড়িদেরকে সম্মান করাঃ সংসার সুখের করতে অবশ্যই শ্বশুর-শাশুড়িকে শ্রদ্ধা এবং মান্য করতে হবে। নিজের বাবা-মা মনে করে তাদের কেয়ার করতে হবে। একজন স্ত্রী নতুন করে একটি সংসারে গিয়ে নতুন মানুষদের সাথে মিশতে হয়। তাদেরকে নিজের করে নিতে হয় আপন ভাবতে হয়।

তেমনি পুরুষ মানুষটিও কিন্তু তার শ্বশুরবাড়িতে আরেকটি ছেলে হিসেবে পরিচিত হয়। তাই দুজনেই দুজনের জায়গা থেকে যদি বিশেষ করে যাদের শ্বশুর-শাশুড়ি আছে তাদের সবসময় সম্মান ও শ্রদ্ধা করে যেতে হবে। তাহলে আশাকরি কখনও সংসারের দাম্পত্য কলহ হবে না।

১৬। বিশ্বাস ও আস্থাঃ একটা সুখী সংসার গড়তে যে বিষয়টা খুবই প্রয়োজন সেটা হল দজনের প্রতি অগাধ বিশ্বাস এবং আস্থা। এই জিনিসটা যদি না থাকে তাহলে সংসার টিকিয়ে রাখা কঠিন। সংসার টিকে থাকে বিশ্বাসের উপর, আস্থার উপর, ভালবাসার উপর। তাই কোনো কিছুতেই সন্দেহ প্রবণ না হয় প্রত্যেকের প্রতি বিশ্বাস রাখতে পারলে দাম্পত্য জীবনে সুখী হওয়া যায়।

১৭। ধৈর্য ধারনঃ ধৈর্য ধারন করতে পারাটা অত্যন্ত ভাল একটা গুন। যার ধৈর্য যত বেশী, দাম্পত্য জীবনে সফলতা তার তত বেশী। তাই স্বামী এবং স্ত্রী দুজনকেই ধৈর্যশীল হতে হবে। যেটা আজকাল খুব কম দেখা যায়। সংসার করতে গেলে অনেক প্রবলেম হতে পারে, অনেক বিপদ আপদ আসতে পারে। সেগুলোকে ধৈর্যের সাথে মুকাবেলা করতে হবে। মনে রাখবেন ধৈর্যশীলকে সৃষ্টিকর্তা পছন্দ করেন।

১৮। ধর্মীয় রীতিনীতিঃ বিবাহ শুধুমাত্র একটি পারিবারিক আর সামাজিক বন্ধনই নয়। এটি একটি ধর্মীয় বন্ধনও বটে। আপনি যে ধর্মেরই হন না কেন। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে দুজন একসাথে একে অপরের বাড়িতে গিয়ে সবার সাথে পালন করার চেষ্টা করুন। মুসলমান হলে ঘরে নামাজ ও এবাদত বন্দেগির অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে আত্মার তৃপ্তি আসবে মন ভাল থাকবে। সংসারে সুখ শান্তি বজায় থাকবে।

সংসার হল ব্যাপকভাবে বিস্তৃত একটা জায়গা। এর পরিধি বিশাল। দাম্পত্য জীবন কে সুখী করতে আরো অসংখ্য বিষয় হয়তো রয়ে গেল। তারপরও এই বিষয়গুলোর দিকে বেশি করে নজর দেয়ার চেষ্টা করুন। দেখবেন আপনার সংসার কত সুখের হয়ে গেছে। প্রত্যেকটি সংসারেই এই বিষয়গুলো থাকাটা জরুরী। 

পূর্ববর্তী আর্টিকেলডায়েট চার্ট কেমন হওয়া উচিত ? ডায়েট করতে সাবধান।
পরবর্তী আর্টিকেলশিশুর ওজন বৃদ্ধি ও শিশু দ্রুত লম্বা হবে যে খাবারগুলো খেলে

একটি মন্তব্য করুন

এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহপূর্বক আপনার নাম লিখুন