ডায়েট চার্ট কেমন হওয়া উচিত ? ডায়েট করতে সাবধান।

32
ডায়েট চার্ট

ডায়েট চার্ট কেমন হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন ? প্রতিদিন আপনি কি খাবেন তার একটি ডায়েট লিস্ট বা রুটিন কেমন হওয়া উচিত ? কোন খাবারগুলো খেলে আপনার সঠিক ডায়েট পালন করা হবে ? ডায়েটের এই বিষয়গুলো আপনার জানা বা জেনে খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। মনে রাখবেন প্রতিটি মানুষের ডায়েট চার্ট অবশ্যই আলাদা হতে হবে।

ডায়েট করার বিষয়টিকে আপনি যতটা সহজ মনে করছেন। আসলে ডায়েটিং কিন্তু এতটা সহজ নয়। আবার ওজন বাড়ানো যতটা সহজ কিন্তু ওজন কমানো ততোটা সহজ নয়। তাই ডায়েটের বিষয়ে যারা সচেতন তারা কিন্তু এই ডায়েটের খাবারগুলো সম্পর্কে সবসময় একজন অভিজ্ঞ ডায়েটেশিয়ানের কাছে জানতে চান যে, তারা কিভাবে ডায়েট করবেন। কিভাবে ডায়েট করলে তারা ভাল থাকবেন বা ওজন কমাতে পারবেন।

কারণ একেক জনের ওজন, বয়স, উচ্চতা কিন্তু ভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। আবার কোন রোগ বালাই আছে কিনা এমন আরও অনেক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তৈরি করতে হয় প্রত্যেকের খাবার রুটিন বা ডায়েট চার্ট। তাও আবার কিছুদিন পর পর সেই রুটিন টি বদলাতে হয়।

তাই একজনের ডায়েট চার্ট বা খাবার রুটিন যদি আরেকজন ফলো করে খাওয়া শুরু করেন তা হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই এই সঠিক ভাবে ডায়েট প্ল্যান বা প্রত্যেকের খাদ্য তালিকা কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ কি বলেন আসুন সেটা জেনে নেই।

ধরুন, আপনার ওজন যতটুকু থাকার দরকার ছিল তার থেকে অনেকটা ওজন বেড়ে গেছে। তাই এখন কি খাবেন, আর কতটুকুইবা খাবেন সেই প্রশ্ন এখন মাথার মধ্যে ঘুরপাক খায় সবসময়। কোন বয়সে কতটুকু ক্যালোরি আপনাকে খেতে হবে সেটা না জেনে খাওয়ার ফলে কিন্তু ওজনের তারতম্য ঘটে থাকে।

তবে, শুধু বয়সই না। আপনার ওজন আপনার উচ্চতা, শারীরিক ক্ষমতা বা একটিভিটিস, আপনার জীবনযাত্রা, অভ্যাস, বদভ্যাস, বাসস্থান, চারপাশের পরিবেশ কেমন, আপনি কোন পেশার সাথে জড়িত আছেন তার ওপর নির্ভর করবে আপনার সঠিক ক্যালোরি কতটুকু প্রয়োজন।

একজনকে দেখা গেল কিছুদিন ডায়েট করে তার ওজন কমিয়ে ফেললেন। আপনি যদি সেটা দেখে উৎসাহিত হয়ে তার সেই ডায়েট চার্ট দেখে ডায়েট করা শুরু করে দেন সেটা কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

তাই কেউ যদি তার ওজনের তুলনায় নির্দিষ্ট পরিমাণে ওজন কমাতে চান তাহলে তার উচিত হবে নিজে নিজে কখনই ডায়েট শুরু না করা। তার উচিত একজন অভিজ্ঞ এক্সপার্ট বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া। তারপর সেই এক্সপার্টের সাথে বসে সুন্দর একটি ক্যালরি চার্ট তৈরি করে ওজন কমানোর শুরু করা।

অনেকেই আছেন যারা অন্যের কথা শুনে বা নিজে ইন্টারনেট ঘেঁটে ক্যালরির চার্ট বানিয়ে পুরাদমে ডায়েট করা শুরু করে দেন। এভাবে নিজে নিজে ডায়েট করলে কিছুদিনের মধ্যে ওজন কমলেও পরবর্তীতে তার শরীরের বিরূপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

যেমন- চুল পড়ে যাওয়া, পুনরায় ওজন বেড়ে যাওয়া, বিষন্নতা, দুর্বলতা, রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়া থেকে শুরু করে আরো নানা ধরনের অসুবিধা দেখা দিতে পারে।

তাই শুধুমাত্র বয়সের উপর ভিত্তি করে ক্যালরি নির্দিষ্ট করে ডায়েট শুরু করা উচিত না। আপনাকে নির্বাচন করতে হবে আপনি কি কাজ করতেছেন, কাজের ক্ষেত্রে আপনার শারীরিক পরিশ্রম কেমন হচ্ছে, আপনার উচ্চতা কতটুকু বা আপনার বিএমআই রিপোর্ট কেমন।

তারপর সবগুলো রিপোর্ট মিলিয়ে একজন এক্সপার্টের সাথে বসে আপনার প্রতিদিনের ক্যালোরি গ্রহণের চার্টটি তৈরি করে নিতে পারেন। তারপর যদি আপনি ডায়েট শুরু করেন তাহলে সেটা হবে আপনার জন্য স্বাস্থ্য সম্মত ডায়েট প্ল্যান।

সাধারণত আমাদের দেশে একজন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দৈনিক ১৮০০ থেকে ২০০০ কিলো ক্যালরি প্রয়োজন হয়। অপরদিকে একজন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার দৈনিক ১৫০০ থেকে ১৬০০ কিলো ক্যালরি গ্রহণের প্রয়োজন হয়।

তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে আপনার নিজের জন্য কতটুকু ক্যালোরি আপনি গ্রহণ করবেন তা আগে থেকে আপনাকে নির্ধারণ করে তারপর ডায়েট করা শুরু করতে হবে।

তাই সকলের জন্য পরামর্শ হল, অন্যজনের ডায়েট চার্ট বা ইন্টারনেট থেকে দেখে নয়। ডায়েটের ব্যাপারে অবশ্যই একজন এক্সপার্ট এর সাথে আলোচনা করুন। তার সাথে সঠিক ডায়েটের বিষয় নিয়ে বসে ঠিক করুন। 

পূর্ববর্তী আর্টিকেলচেহারা থেকে বয়সের ছাপ দূর করার সাত টি কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি
পরবর্তী আর্টিকেলদাম্পত্য জীবন সুখী করার ১৮ টি কৌশল জেনে নিন।

১টি মন্তব্য

একটি মন্তব্য করুন

এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহপূর্বক আপনার নাম লিখুন