চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার সহজ ৫টি পদ্ধতি। আমাদের চেহারার মধ্যে সবচাইতে স্পর্শকাতর অঙ্গ হল আমাদের চোখ। তাই চখের পাতা ও চখের নিচের অংশ দুটোই সেনসিটিভ। ফলে সবসময় এই স্থানগুলোতে আলাদা কোন ক্রিম ব্যাবহার করে বিশেষ কোন যত্ন নেয়া সম্ভব হয়না।

তাই চেহারার ত্বক সুন্দর থাকলেও চোখের নিচের অংশ ও পাতার অংশ ধীরে ধীরে কাল হয়ে যায় এবং চোখের চতুর্দিকে একটা ডার্ক সার্কেল তৈরি হয়। তবে বিশেষ করে অতিরিক্ত মানসিক টেনশন ও নিয়মিত না ঘুমানোর কারনেও চোখের নিচে কালো দাগ তৈরি হয়।

কসমেটিক এর দোকানে গিএ চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার কোন ক্রিমের বিষয়ে জানতে চাইলে একেক জন আপনাকে একেক ধরনের কসমেটিক ক্রিম ব্যাবহার করতে পরামর্শ দিবে। যা আপনার ত্বকের জন্য সঠিক ট্রিটমেন্ট এর বদলে উলটাও হতে পারে। তাই আমরা চাইলে নিজেরাই হাতের কাছে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ব্যাবহার করে ঘরে বসে একটু চেষ্টা করলেই চোখের নিচে কালো দাগ পড়া থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে পারি।

১। শসা ও টমেটোঃ ত্বকের যত্নে শসা ও টমেটো খুব কার্যকর একটি উপাদান। শসা ত্বকের কাল দাগ ও কুচকে যাওয়া চামড়া মসৃণ ও সুন্দর করতে সাহায্য করে। আর টমেটো একটি প্রাকৃতিক ব্লিচ হিসাবে কাজ করে। তাই ত্বকের ও চোখের নিচে কালো দাগ দূর করে চোখের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে তাই এই দুইটি উপাদান একত্রে ব্যাবহার করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।

ব্যাবহার প্রণালিঃ প্রথমে একটি শসাকে থেতলিএ অথবা ব্লেন্ড করে তার থেকে দুই চামুচ রস আলাদা করে একটি পাত্রে নিয়ে নিন। এখন এর সাথে একটি পাকা টমেটোর দুই চামুচ রস মিশিয়ে দিন। তারপর এই মিশ্রণটির মধ্যে এক চামুচ চালের গুড়া ও আধা চামুচ হলুদ গুড়া দিয়ে ভালকরে মিশিয়ে নিতে হবে।

এখানে চালের গুড়া ও হলুদের গুড়া অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করবে যা চোখের চারপাশের মরা চামড়া রিমুভ করে চামড়া উজ্জ্বল করে তুলতে সাহায্য করে চোখের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনবে।

সবগুলো উপাদান ভালকরে মিক্স করার পর মিশ্রণটি আঙ্গুলের সাহায্যে চোখের নিচে কাল হয়ে যাওয়া অংশের উপর ১৫-২০ মিনিট পর্যন্ত লাগিয়ে রাখুন। তারপর নরমাল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই মিশ্রণটি এক টানা তিনদিন ব্যাবহারে আপনার চোখের চারপাশে ও চোখের নিচে কালো দাগ সম্পূর্ণ দূর হয়ে যাবে।

২। এলভেরা ও আলুঃ আলু চোখের নিচের কাল দাগ সহ ত্বকের যেকোনো কাল দাগ তুলে ত্বক কে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এলভেরাও ত্বকের দাগ তুলে ত্বক কে মসৃণ ও কোমল করতে সাহায্য করে। তাই চোখের নিচের কাল দাগ তুলে ত্বক কে সুন্দর করতে এ দুটি উপাদানকে একত্রে মিশিয়ে একটি আই জেল বানাতে হবে।

ব্যাবহার প্রণালিঃ প্রথমে একটি আলুকে ভালকরে থেতলিএ তার থেকে এক চামুচ রস আলাদা করে একটি পাত্রে নিয়ে তার মধ্যে এক চামুচ এলভেরা জেল মিশিয়ে নিন। তারপর মিশ্রণটির মধ্যে এক চামুচ গ্লিসারিন ও দুইটি ভিটামিন- ই ক্যাপসুল দিয়ে ভালকরে মিশিয়ে নিন।

মিশানো হয়ে গেলে রাতে শোয়ার আগে নরম কাপড় বা তুলার সাহায্যে আপনার কাল হয়ে যাওয়া চোখের চারপাশে লাগিয়ে রাখুন। তারপর সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ মুখ ধুয়ে ফেলুন।

এই মিশ্রণটি বাজারে কেনা যেকোনো আই জেল থেকেও খুবই কার্যকরী একটি ফর্মুলা। যা আপনার চোখের নিচে কালো দাগ তুলে কুঁচকান চামড়া মসৃণ করে আপনার ত্বক কে দ্রুত সুন্দর করে তুলবে। এই মিশ্রণটি নিয়মিত তিন দিন ব্যাবহারেই আপনার চোখের নিচের সমস্ত কাল দাগ সম্পূর্ণরূপে দূর হয়ে যাবে।

৩। লেবু ও শসাঃ ত্বকের যে কোনো দাগ তুলতে লেবুর জুড়ি নাই। কারন লেবুতে থাকা ভিটামিন- সি ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ত্বকের দাগ তুলার পাশাপাশি ত্বক কে নরম কোমল ও মসৃণ করতে সাহায্য করে। আর শসায় আছে ভিটামিন- বি, সি ও জিঙ্ক যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে ত্বক কে সতেজ রাখে।

ব্যাবহার প্রণালিঃ একটি পাত্রে এক চামুচ করে লেবু ও শসার রস নিয়ে তার সাথে এক চামুচ আলুর রস মিশিয়ে ভালকরে সুন্দর একটি মিশ্রণ বানিএ নিন। তারপর মিশ্রণটি তুলার সাহায্যে আপনার চোখের চারপাশে ভালকরে ম্যাসেজ করে করে লাগিয়ে রাখুন এবং দশ মিনিট পর নরমাল পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলুন। আপনি চাইলে শসার রসের পরিবর্তে এক চামুচ টমেটোর রস মিশিয়েও ব্যাবহার করতে পারেন।

৪। কলা ও শসাঃ কলা ও শসার মিশ্রণ ত্বকের ও চোখের নিচে কালো দাগ তুলা সহ ত্বকের বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে। কারন কলায় রয়েছে আয়রন, প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম সহ প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এবং অসংখ্য পুষ্টিগুণ।

খুব প্রাচিন কাল থেকেই রূপচর্চায়, চুলের যত্নে ও ত্বকের যত্নে পাকা কলার ব্যাবহার হয়ে আসছে। আর শসায় থাকা উপাদান ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে ত্বক কে সতেজ রাখে।

ব্যাবহার প্রণালিঃ একটি পাকা কলাকে ভাল করে চটকিয়ে নিয়ে তার সাথে দুই চামুচ শসার পেস্ট দিয়ে ভালকরে মিশিয়ে নিয়ে চোখের নিচে দশ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখুন। তারপর দশ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

এই পদ্ধতিতে সপ্তাহে আপনি সপ্তাহে মাত্র তিনদিন ব্যাবহারেই আপনার চোখের নিচে কালো দাগ চিরতরে দূর হয়ে যাবে।

৫। আলু ও শসাঃ চোখের নিচে কালো দাগ দূর করতে এই দুটি উপাদান মিশ্রণের ব্যাবহার অতি প্রাচিন একটি কার্যকরী পদ্ধতি। শুধু চোখ নয়, ত্বকের যে কোন দাগ তুলতেও এই দুইটির মিশ্রণ অত্যন্ত কার্যকর। চলুন জেনে নেই কিভাবে এতি ব্যাবহার করতে হবে।

ব্যাবহার প্রণালিঃ প্রথমে একটি আলু ছোট টুকরা করে কেটে থেতলিএ বা ব্লেন্ড করে ছেকে রসটুকুন আলাদা একটি পাত্রে নিয়ে নিন। একি নিয়মে শসাকেও ব্লেন্ড করে ছেকে রসটুকুন নিয়ে আলুর রসের সাথে ভালকরে মিশিয়ে নিন। তারপর এই রসটুকু তুলার সাহায্যে চোখের নিচে কাল হয়ে যাওয়া অংশে দশ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখুন। দশ মিনিট পর নরমাল পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

এই মিশ্রণটি আপনি একটানা তিন দিন ব্যাবহার করলেই আপনার চোখের নিচে কালো দাগ সম্পূর্ণরূপে রিমুভ হয়ে যাবে।

চোখের নিচে কালো দাগ দূর করতে আরও কিছু পরামর্শঃ

শহুরে জীবনে নানান বেস্ততা ও পড়াশুনার চাপের কারনে এবং অতিরিক্ত মোবাইলের দিকে আসক্তির কারনে সময়মত আমরা ঘুমাইনা। ফলে ঘুমাতে গেলেও সহজে ঘুম আসেনা। ফলশ্রুতিতে আমাদের ঘুম কম হয়। চিকিৎসকদের মতে একজন ব্যক্তির ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ঘুমের প্রয়োজন। চোখের নিচে কালো দাগ দূর করতে তাই সময়মত ঘুমানোর অভ্যাস তৈরি করতে হবে।

এছাড়া যাদের চোখে দীর্ঘদিন ধরে অ্যালার্জি সমস্যা থাকে তাদের চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে চোখের চতুর্দিকে ধীরে ধীরে একটা ডার্ক সার্কেল তৈরি হয়। কারন অ্যালার্জির কারনে যখন চুলকানি আসে তখন আমরা হাত বা আঙ্গুল দিয়ে চুলকাতে যাই। না চুলকায়েও থাকা যায়না। এভাবে ঘন ঘন চুলকানোর ফলে চোখের চারপাশে চোখের পাতা সহ কালো হয়ে যায়।

মুখের ত্বক হল শরীরের অন্যান্য অংশের ত্বকের চেয়ে খুব বেশী সংবেদনশীল। যা অল্প আঘাতেই স্পট পড়ে যায়। তাই চোখে যত ঘসা মাজা পড়বে তখনই চোখের চারপাশের চামড়ার মধ্যে ধীরে ধীরে দাগ সৃষ্টি হওয়া শুরু হবে। এভাবে একই যায়গায় বার বার ঘষা লাগার ফলে কালো দাগের সৃষ্টি হয়।

চোখের চারপাশে ডার্ক সার্কেল পড়ার আরেকটি কারন হল নিয়মিত পানি কম খাওয়ার কারনে। নানান বেস্ততা ও আলসেমির কারনে আমরা অনেকেই পানি কম খাই। কারন দেহের প্রত্যেকটি অংশের সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ জরুরী। তাই নিয়মিত পানি পান করা উচিত।

চোখের নিচে কালো দাগ রোধে চোখে অ্যালার্জি থাকলে ভাল ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে দ্রুত চিকিৎসা নিন। প্রয়োজনে চশমা ব্যাবহার করুন। তাহলে চুলকানি আসলেও চোখে স্পর্শ করা কমে যাবে।

একটি উত্তর প্রদান করুন

অনুগ্রহ করে এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন