চেহারা থেকে বয়সের ছাপ দূর করার সাত টি কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি

102
বয়সের ছাপ

বয়সের ছাপ দূর করতে চান ? ভাবছেন এত তাড়াতাড়ি চেহারার মধ্যে বয়সের ছাপ পড়লে কি করবেন ? আজকাল বয়স চল্লিশ হতে না হতেই চেহারার মধ্যে একটা aging effect চলে আসে। মনে হয় যেন বৃদ্ধদের কাতারে চলে গেছেন।

তখন অনেকেই এটা নিয়ে ভীষণ টেনশনে পড়ে যান। তাই আপনার টেনশনের কথা ভেবেই আপনার চেহারা থেকে বয়সের ছাপ দূর করার ০৭ (সাত) টি কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

আমরা যে কোনো ভাবেই আমাদের বয়সটাকে ধরে রাখতে চাই। সব সময় আমাদের চেহারাটা একটা তারুণ্যদীপ্ত থাকুক এটাই সবাই কামনা করে। কিন্তু তাই বলে কি হাজার চেষ্টা করেও বয়সটাকে ধরে রাখা যায় ? উত্তর একটাই কখনই যায় না।

কখনই আপনি আপনার বয়স টাকে ধরে রাখতে পারবেন না। এটি একটি প্রাকৃতিক বিষয়। আর জখনই বয়স বাড়ার সাথে সাথে আপনার চোখে মুখে বয়সের একটা ছাপ চলে আসে। তখন যে কেউ দেখেই অনুমান করতে পারবে আপনার বয়স কত হবে।

তবে আমরা আমাদের বয়সটাকে আটকে না রাখতে পারলেও চেহারা থেকে বয়সের ছাপ দূর করে চেহারায় একটা Younger Look কিন্তু আপনি ফিরিয়ে আনতে পারেন। চেহারা থেকে আপনার বয়সের ছাপটাকে অনেকটাই দূর করে দিতে পারেন।

আমাদের চেহারার মধ্যে Younger Looking ফিরিয়ে আনার যে পদ্ধতিগুলো আছে তার উদ্দেশ্য কিন্তু একটিই। অর্থাৎ চেহারা থেকে বয়সের ছাপ দূর করা। কেউ সারাজীবন যুবক বা যুবতী থাকবেন সেটা যেমন সম্ভব না। তেমনি কেউ চল্লিশ বছর বয়সী হলেই বৃদ্ধ হয়ে যাবেন সেটাও কিন্তু প্রত্যাশা করেন না।

তাই আপনার চেহারা থেকে সম্পূর্ণরূপে বয়সের ছাপ দূর করার সঠিক সাত টি চিকিৎসা পদ্ধতি এখানে আলোচনা করা হলো। কিছু চিকিৎসা রয়েছে যেগুলো নিলে ত্বকের বুড়ীয়ে যাবার গতি কমিয়ে দিতে পারবে। যা ফলো করে আপনি আপনার চেহারা থেকে বয়সের ছাপ দূর করতে পারেন।

১। রেটিনল ময়েশ্চারাইজিং ক্রিমঃ এটি রেটিনল ক্রিম নামে পরিচিত। এর মধ্যে এলভেরা, হায়ালুরনিক এসিড এবং ভিটামিন- ই সহ আরও অনেক উপাদান দেয়া থাকে। আমাদের মুখের স্কিনের উপরে যে লেয়ারটি থাকে সেটা নিয়মিত শেডিং হতে থাকে।বয়সের ছাপ

অর্থাৎ সাপের খোলস যেমন পরিবর্তন হয়, সেটা দৃশ্যমান হলেও তেমনি আমাদের চামড়াও পরিবর্তন হয়। তবে এটা আমারা খালি চোখে দেখতে পায় না। আমাদের মুখের চামড়ার উপরে লেয়ারটি এভাবে নিয়মিত পরিবর্তন হতে থাকে। আর এই রেটিনল ক্রিমটা এই প্রক্রিয়াটাকে ত্বরান্বিত করে দিতে পারে।

আপনার ত্বকের উপরের যে পুরনো খোসাটা সরে গিয়ে তারুণ্যদীপ্ত একটা স্কিন আনতে সাহায্য করে। এই ক্রিমটি আপনি প্রতিদিন রাতে শোয়ার আগে ভালো করে মুখ ধুয়ে তারপর ব্যবহার করতে পারেন।

২। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি পদ্ধতিঃ এই পদ্ধতিটি একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা মেশিনের মাধ্যমে মুখের ত্বকে এপ্লাই করা হয়। মেশিনটি থেকে বিশেষ এক ধরনের রেডিয়েশন এনার্জি বা হিট বের হয়। যা ঘষে ঘষে মুখে ত্বকে এপ্লাই করতে হয়।চেহারা থেকে বয়সের ছাপ দূর করার চিকিৎসা

এই রেডিয়েশনটা দিলে স্কিনের গভীরে প্রবেশ করে ত্বকের কোলাজেন ফাইবার কে টেনে ধরার চেষ্টা করে। অর্থাৎ টাইট করে স্কিনটাকে টেনে ধরে রাখে।

বয়সের একটা সময়ে গিয়ে মুখের ত্বক ঝুলে যায়। যেটাকে আমরা বলি বয়সের ছাপ। তার মানে বুঝতে হবে যে, আপনার ত্বকের ভিতরে যেই কোলাজেন ফাইবারটা রয়েছে সেটি আস্তে আস্তে লুজ হয়ে গেছে বা কমে গেছে।

ফলে আপনার চেহারাটাকে টানটান করে ধরে রাখতে পারছে না। ফলে চামড়া ঝুলে যাচ্ছে। কোলাজেন ফাইবার এমন একটি বস্তু যেটাকে যদি একটু হিট দিয়ে আলোড়িত বা উত্তেজিত করে দেয়া যায় তাহলে এই কোলাজেন ফাইবার গুলো নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠে বা পুনর্জন্ম লাভ করে। ইলাস্টিকের মত করে স্কিনটাকে টানটান করে ধরে রাখে।

যাদের মুখে বয়সের ছাপ পড়ে গেছে বা মুখের চামড়া নিচের দিকে ঝুলতে শুরু করেছে তারা এই রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ডিভাইসের মাধ্যমে পুরো স্কিনটাকে ম্যাসেজ করতে পারেন। এটা খুব ভালো কাজ করে। তবে পুরোপুরি একদম কম বয়সে টিন এজের মত হবে তা কিন্তু না।

এটা রেগুলার ব্যবহারের ফলে আপনার স্কিনের কিছুটা উন্নতি হবে। এই ডিভাইসটা বৃদ্ধ বয়সের চামড়ায় ব্যবহারের জন্য কাজ করে না। তবে চল্লিশ থেকে পয়তাল্লিশ বছর বয়সে চেহারায় যে পরিবর্তন আসে সেটাকে ইম্প্রুভ করতে পারবেন।

৩। ফ্রেকশনাল লেজারঃ এই ফ্রেকশনাল লেজার যন্ত্রটি দ্বারা মুখের স্কিনের মধ্যে লেজার রশ্নি এপ্লাই করা হয়। মুখের ত্বকের মধ্যে কুচকানো ভাঁজ পড়া বা বলিরেখা পড়ে সেটাকে এই ফ্রেকশনাল লেজার এর মাধ্যমে দূর করা যায়।বয়সের ছাপ

এটা ব্যবহারের ফলে ত্বকে কিছুটা তাপ লাগে ও লাল হয়ে যায়। স্কিন ফুলে ফুলে থাকে কয়েকদিন। মুখের ত্বকের কুঁচকানো ভাঁজ পড়া ভাব বা বলিরেখা দূর করতে এই ফ্রেকশনাল লেজার ব্যবহারে আপনার ত্বক পুরোপুরি চেঞ্জ হবে না। তবে কিছুটা উন্নতি আপনি দেখতে পাবেন। এটাও আপনার স্কিনের জন্য অনেক কিছু বলতে পারেন।

৪। বুটক্সঃ এটা সারা বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত ও সৌন্দর্য বর্ধনে জনপ্রিয় এক ধরনের ইনজেকশান। এর পুরো নাম বোটলিনাম টক্সিন। সংক্ষেপে বুটক্স বলা হয়। এটা এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থেকে সংগ্রহ করে তারপর বিশেষভাবে প্রক্রিয়াজাত করে এই ইনজেকশানটি তৈরি করা হয়।

আমাদের মুখের মধ্যে যে সমস্ত মাসল বা মাংস পেশী রয়েছে সেগুলো যখন টান দিয়ে ধরে থাকে তখন সেই পেশীর উপরের স্কিনের মধ্যে একটা কুচকানো ভাব চলে আসে বা দাগ দাগ পড়ে যায়। তখন ঐ সমস্ত জায়গায় ত্বকের নিচের মাসল গুলোকে এই ইনজেকশানের মাধ্যমে প্যারালাইজড করা হয়। ফলে মাসলটা প্যারালাইজড হয়ে গেলে উপরের স্কিনটা টাইট হয়ে যায়।

এই বুটক্স ইনজেকশানের মাধ্যমে কপালের মধ্যে কুঁচকানো ভাঁজ পড়া দাগ রোধ করা যায়। চোখের পাশের ভাঁজ করা দাগ যেটাকে ক্রোজ ফিড বলে বা কাকের পায়ের মত কুঁচকানো ভাঁজ পড়া দাগ রোধ করা যায়।

নাকের দুই পাশের স্মাইল লাইনে যে ভাঁজ পড়ে সেটা রোধ করা যায়। এভাবে আপনার মুখের ত্বকের মধ্যে বুটক্স ব্যবহারে মুখের মধ্যে একটা কম বয়সী লুক ফিরিয়ে নিয়ে আসা যায়।

তবে এর রেজাল্ট আপনি সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে ছয় মাস পর্যন্ত পাবেন। অনেকে হয়তো আরো বেশি সময় স্থায়ী বলতে পারেন তাদের ব্যবসার জন্য। এই পদ্ধতিটা আপনি ছয় মাস পরপর নিতে পারেন। কোন প্রকারের ক্ষতি হবে না। বরং আপনার এইজিং প্রসেসটা স্লো হয়ে যায়।

এতে করে ধীরে ধীরে আপনার মুখ থেকে বয়সের ছাপ ত্বরান্বিত হবে। কিছুদিন এভাবে নেয়ার পর আপনি আট থেকে নয় মাস পরপর নিতে পারেন।

৫। থ্রেড ফেইস লিফটঃ এটা হল সুতার মাধ্যমে ফেইস এ পরিবর্তন আনা। অর্থাৎ আমাদের মুখের ঝুলে যাওয়া চামড়ার নিচে এক ধরনের সুইয়ের মাধ্যমে একটা সুতা ঢুকিয়ে দেয়া হয়। যেটা একেবারে চামড়ার ভিতরে থেকে যাবে। তারপর ধীরে ধীরে এই সুতাটা মাংসপেশির সাথে মিশে যাবে।বয়সের ছাপ

এটা চামড়ার পজিশন বুঝে চামড়ার নিচে ঢুকিয়ে চামড়াকে টেনে ধরে রাখা হয়। এটা খুবই কার্যকর একটা পদ্ধতি। এর মেয়াদ অনেকে এক বছর বা দেড় বছর স্থায়ী বলে থাকেন। তবে এর স্থায়িত্ব হতে পারে সর্বোচ্চ সাত থেকে আট মাস পর্যন্ত।

তারপর সুতাটা এবজরব হয়ে গেলে চামড়াটা পুনরায় আগের অবস্থানে চলে আসে। সুতা ঢুকাতেও বেশী সময় লাগে না। পনেরো থেকে বিশ মিনিটের মধ্যেই হয়ে যায়। এ পদ্ধতি আপনি নিয়মিত গ্রহণ করতে পারেন।

৬। মাইক্রো নীডেলিং প্রসিডর ও রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিঃ এই মাইক্রো নিডেলিং এমন একটি পদ্ধতি বা মেশিন যার মধ্যে অনেকগুলো সূক্ষ্ম সূচ থাকে। যার দ্বারা ফেইসের চামড়ার মাল্টিপল অংশটাকে পাংচার বা আক্রান্ত করা হয়। সুইয়ের এর মাধ্যমে ফোড়ানো হয় এবং এর ফলে স্কিনের মধ্যে মাইক্রো ব্লিডিং হয়। তবে ভয়ের কিছু নেই।বয়সের ছাপ

এই প্রক্রিয়াটি আপনি খালি চোখে দেখতে পাবেন না। এর ফলে স্কিনের নিচে কোলাজেন ফাইবারগুলি স্টিমুলাইজ হয় আক্রান্ত হয় ও তাদের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। কোলাজেন টাইট হয় এবং এর উৎপাদনটা বৃদ্ধি পায়।

এই স্টিমুলাইজেশনটা নির্দিষ্ট দিন পরপর কয়েকটি সেশানে ভাগ করে করে দিতে হয়। অর্থাৎ তিন সপ্তাহ পরপর পাঁচ থেকে আট টি সেশান করলে আপনার মুখের স্কিনটা অনেক টান টান হয়ে যাবে। আর চেহারার মধ্যে থেকে বয়সের ছাপ টা অনেক কমে যাবে।

চেহারা থেকে বয়সের ছাপ দূর করার জন্য এটাও কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তবে এটা করলে আপনি একটি ভাল সমাধান পাবেন। এটার আরেকটি উপকারিতাও আছে। সেটা হলে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বেড়ে যায়। আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এই মাইক্রো নিডেলিং প্রসিডর ভাল কাজ করে।

এই মাইক্রো নিডলিং প্রসিডর এর সাথে যখন রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি দেয়া হয় তখন আপনার ত্বকের কার্যকারিতা আরো বেড়ে যাবে এবং চেহারা থেকে বয়সের ছাপ অনেক কমে যাবে। আপনাকে আরো তারুণ্যদীপ্ত উজ্জ্বল দেখাবে।

৭। আল থেরাপিঃ আল থেরাপি হচ্ছে একটি এক ধরনের হিট প্রদান থেরাপি। আলট্রাসাউন্ড কে কাজে লাগিয়ে যে চিকিৎসা পদ্ধতি দেয়া হয় সেটাই হলো আল থেরাপি। আল থেরাপির দ্বারা স্কিনের নিচে থাকা কোলাজেন ফাইবারগুলিকে ষ্টীমুলাইজ কাজ করা হয়।

এভাবে সারা মুখে আল থেরাপি এপ্লাই করলে কোলাজেন ফাইবারগুলো টাইট হয়ে যায় ও স্কিনটাকে ধীরে ধীরে টেনে নিতে থাকে। ফলে স্কিনটা আগের চেয়ে অনেক টাইট হয়ে যায়।

উপরের এই সাতটি পদ্ধতি হলো সম্পূর্ণ অস্থায়ী একটি পদ্ধতি। যারা সার্জারি এভয়েড করতে চান তারা এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করতে পারেন। অর্থাৎ এর উপকারিতা হলো আপনাকে কোন প্রকার কাঁটা ছেঁড়া না করেই ফলাফল পাচ্ছেন। আর অপকারিতার দিক হল আপনাকে একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর বারবার পদ্ধতিগুলো নিতে হচ্ছে।

তবে তারা স্থায়ী সমাধান চান বা দীর্ঘমেয়াদি সুফল পেতে চান বা ধীরে ধীরে ন্যাচারালি পরিবর্তন আনতে চান তারা ত্বকের সার্জারি করলে ভালো ফল পাবেন। ফেইস লিফ সার্জারি খুব বড় কোন সার্জারি নয়। তেমন কোন ভয় পাওয়ার বিষয়ও না বা তেমন কোনো কাঁটা ছেঁড়াও করা হয় না।

সাধারনত স্কিনের এই সার্জারি বলতে দুই কানের পাশে দিয়ে সামান্য কেটে এই সার্জারিটা করা হয়। ফলে এটা দীর্ঘদিন কার্যকারিতা থাকে।

আশাকরি চেহারা থেকে বয়সের ছাপ দূর করার পদ্ধতিগুলো আপনার অনেক কাজে আসবে। এগুলোর কোনটি আপনি নিতে চাইলে একজন অভিজ্ঞ প্লাস্টিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে পরামর্শ নিতে পারেন।

পূর্ববর্তী আর্টিকেলসন্তান নেয়ার পূর্ব প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত। Pre Conceptional Counselling
পরবর্তী আর্টিকেলডায়েট চার্ট কেমন হওয়া উচিত ? ডায়েট করতে সাবধান।

একটি মন্তব্য করুন

এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহপূর্বক আপনার নাম লিখুন