চুল পড়ার কারণ এবং এর সমাধান জেনে নিন

71
চুল পড়ার কারণ

চুল পড়ার কারণ এবং What Is The Best Treatment For Hair Loss. আমাদের জীবনটা কিন্তু অনেক সুন্দর। আর জীবনের এই সৌন্দর্যটাকে ধরে রাখার জন্য সঠিক জীবন যাপন করা অনেক বেশি জরুরী। যার একটি প্রধান অংশই হচ্ছে সঠিক খাদ্যাভ্যাস।

কারন সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে পারলেই আপনি সুস্থ থাকতে পারবেন সবসময়। আর সুস্থ থাকলেইত আপনার সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্রম ঠিক মত চলবে। আপনার সুন্দর জীবনটাকে উপভোগ করতে পারবেন বেশী করে।

এই সুন্দর জীবনটা আর সুন্দর থাকেনা যখন আমাদের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত ঘটে। যেমন চুল পড়ে যাওয়া। একটি নারী বা পুরুষের সৌন্দর্যের বড় একটি অংশই হল চুল। যার চুল যত সুন্দর আর সিল্কি হবে তাকে দেখতেও কিন্তু অনেক সুন্দর লাগবে।

চুলের সৌন্দর্য আপনার ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটায়। কিন্তু কোন কারনে যদি আমাদের এই সুন্দর চুলগুলো পড়ে যায়, তখন কিন্তু চুলের সেই সৌন্দর্যটাকে আর ধরে রাখা যায়না।

শুরু হয় নানা রকম টেনশন। তাই চুল পড়ে যাচ্ছে বলে টেনশন করলে চুল পড়া কমানো যাবে না। এর সঠিক সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। আমাদেরকে বুঝতে হবে কী কারনে বা কোন সময় থেকে আমাদের চুল এভাবে ঝরে পড়ে যাচ্ছে।

যেমন- অনেকের কোন একদিন টাইফয়েড জ্বর হয়েছিল। তারপর থেকে তার চুল পড়ে যাচ্ছে। কারো ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ হওয়ার পর থেকে চুল পড়ে যাচ্ছে। কারো সন্তান ডেলিভারি হবার পর থেকে চুল পড়ে যাচ্ছে। আবার দেখা যায় এমনিতেই অর্থাৎ কোন কারণ ছাড়াই আপনার চুল পড়ে যাচ্ছে।

চুল পড়ার কারণ ও এর সমাধান সম্পর্কে পুষ্টিবিদের পরামর্শঃ

ছেলে কিংবা মেয়ে উভয়ের জন্যই এই চুল পড়ে যাওয়া মারাত্মক একটি সমস্যা। এইভাবে চুল পড়তে থাকলে স্বাভাবিক ভাবেই সবার চিন্তা কিছুটা বেড়ে যায়। ফলে আরো বেশী পরিমানে মাথা থেকে চুল পড়তে থাকে। সুতরাং টেনশন করা যাবেনা।

তবে চুল পড়ার কারণ খুঁজতে গেলে কিন্তু অনেকগুলো বিষয় নিয়ে আগে আপনাকে ভাবতে হবে। যেমন থাইরয়েডের সমস্যা হলে অনেক সময় চুল পড়তে থাকে। বায়োটিনের অভাবে চুল পড়তে থাকে। ভিটামিন- ই অথবা ভিটামিন- ডি এর অভাবে চুল পড়তে পারে।

বেশিরভাগ মানুষের বিশেষ করে মহিলাদের চুল পড়ে যায় তাদের শরীরে ভিটামিন- ডি এর অভাবে। একটি বিষয় লক্ষ্য করলে হয়তো বুঝতে পারবেন। যেমন অনেকেই পড়াশোনা, জব কিংবা বিভিন্ন কারনে বেশিক্ষণ ধরে একটি রুমের ভিতর থাকার ফলে দীর্ঘক্ষণ তারা সূর্যের আলো থেকে দূরে থাকছেন। অর্থাৎ সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আমাদের খুব কম যাওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে সকালের যে সময়টায় ভিটামিন- ডি বেশী পাওয়া যায়। সেই সময়টায় আমরা ঘরে থাকার ফলে আমাদের শরীরে তৈরি হচ্ছে ভিটামিন- ডি এর ঘাটতি। ভিটামিন- ডি এর ঘাটতি হলে অবশ্যই চুল পড়ে যাবে।

তাই আপনার যদি অতিমাত্রায় চুল পড়তে থাকে তাহলে দ্রুত একজন স্কিনের চিকিৎসকের কাছে যাবেন এবং আপনার থাইরয়েড লেভেল, ভিটামিন ডি এর পরিমাণ দেহে কতটুকু আছে তা পরীক্ষা করিয়ে নিবেন। অথবা আপনি একজন অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের সাথেও কথা বলে আপনার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করতে পারেন।

তবে মনে রাখবেন, কখনো নিজে নিজে বা কারো কাছ থেকে শুনে চিকিৎসা শুরু করবেন না। এর ফলে উপকারের পরিবর্তে চুলের আরও ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বেশী করে পানি খাবেন। পানি ত্বকের সৌন্দর্যের জন্য যেমন প্রয়োজন। তেমনি আপনার চুলের সৌন্দর্যের জন্যও পানির প্রয়োজন আছে। আমাদের খাবারের মেটাবলিজম এবং এবজর্বশনকে সঠিক করার জন্য চাই পর্যাপ্ত পানি।

চুল পড়া রোধে দৈনিক সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিদিনের খাবারে গাড় রঙিন শাকসবজি রাখতে হবে। যাতে আপনি আপনার খাবার থেকে ভিটামিন- ই এর চাহিদা পূরণ করতে পারেন। প্রতিদিন আমলকি, লেবু অথবা ভিটামিন- সি জাতীয় ফল খেলেও হেয়ারফলটা অনেক ইমপ্রুভ হবে।

আবার যারা ডায়েট করতে গিয়ে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে ফেলেছেন তাদেরও কিন্তু অনেক চুল পড়ে যায়। অথবা যারা ডায়েট করে ওজন কমিয়ে ফেলেছেন ফলে এখন তাদের চুল পড়ছে।

নিয়মিত প্রচুর পরিমানে চিনি যুক্ত খাবার, চর্বি যুক্ত খাবার এবং কেমিক্যাল মিস্রিত খাবার গ্রহনও চুল পড়ার কারন হতে পারে। তাই আপনার চুল পড়া বন্ধ করে চুলের গোঁড়া মজবুত ও সুন্দর করতে পরামর্শ হলো, আপনাদের খাবারের তালিকাটা পুনরায় একটু খেয়াল করে দেখুন। যে আপনার খাবারের ব্যালেন্সিংটা সঠিক আছে কিনা।

কারণ সঠিক পরিমানে কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন, ওমেগা ৩, সঠিক পরিমাণে ফ্যাট এবং সঠিক পরিমাণে প্রোটিন, খনিজ সমৃদ্ধ খাবার যদি না থাকে তাহলে অবশ্যই আপনাকে চুল পড়ার এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।

ফলে বাইরে দিয়ে আপনার চুলের যত রকমের যত্নই নেন না কেন। আপনি বিশেষ কোন রগে আক্রান্ত থাকলে আপনার শরীরের ভেতর থেকে চুলপড়া রোধ করতে পারবেনা।

আমরা যে পরিমানে অস্বাস্থ্যকর অথচ বিভিন্ন রকমের লোভনীয় খাবার গ্রহনের ফলে নানা রকম অসুখে আক্রান্ত হতে হচ্ছে প্রায়শই। আর অসুখ হওয়া মানেই হল ঔষধ সেবন। এভাবে অসুখের সময় বিভিন্ন রকম এন্টিবায়োটিক ঔষধ গ্রহনও চুল পড়ার কারণ হতে পারে। তাই ঔষধ খাওয়ার পাশাপাশি বেশী করে পুষ্টিকর ও প্রোটিন জাতীয় খাবার গ্রহণ করলে চুল পড়া কমানো সম্ভব।

আপনার যদি থাইরয়েডের সমস্যা ধরা পড়ে তাহলে আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শমত ঔষধ খেতে হবে। তবে ডাক্তার যদি বলে তাহলে আপনি বায়োটিন খেতে পারেন। আপনার চুলের ইন্টার্নালী কেয়ার দিতে পারে আপনার সঠিক পুষ্টি গ্রহণ আর চুলের সঠিক যত্ন।

চুল পড়ার কারণ ও এর সমাধান সম্পর্কে বিউটি এক্সপার্টের পরামর্শঃ

অনেকেই আছেন চুলের ব্যাপারে খুব উদাসীন থাকেন সবসময়। ভাবেন চুল বেঁধেই রাখি আলাদা যত্নের কি দরকার। আবার অনেকে তাদের নানান ব্যস্ততার কারনে চুলের দিকে তাকানোর সময় পায়না।

রেগুলার আমাদের চুল পরিষ্কার রাখতে হবে। অর্থাৎ মাথার স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখতে হবে। মাথার স্ক্যাল্প যদি ক্লিন থাকে তাহলে এমনিতেই আপনার চুল কম পড়বে। চুল পড়ার আরেকটি কারণ হল আপনি কোন ধরনের শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করছেন তার উপর।

আপনার চুল অনেক সিল্কি আর সুন্দর করতে চাইলে পড়ুনঃ চুল সিল্কি করার সঠিক উপায়

চুলে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনারের ব্যাবহারঃ চুলে সঠিক উপায়ে চুলে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনারের সঠিক ব্যাবহার না হওয়াও চুল পড়ার কারণ। অনেকে কিভাবে চুলে শ্যাম্পু করতে হবে সেই নিয়মটাও ঠিকমতো জানেন না।

শ্যাম্পু করার নিয়ম হলো শ্যাম্পু সরাসরি চুলে না দিয়ে এর সাথে কিছুটা পানি মিশিয়ে হালকা করে তারপর চুলে শ্যাম্পু করতে হবে। তারপর চুল থেকে শ্যাম্পুর গন্ধ না যাওয়া পর্যন্ত মাথায় পানি ঢালতে হবে।

এটা আপনার চুল এবং স্ক্যাল্পের জন্য ভাল। আপনি কন্ডিশনার যদি ব্যবহার করেন তাহলে সেটা যেন চুলের গোড়ায় না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কন্ডিশনার চুলের গোড়ায় গেলে চুল পড়ে যায়। এটা চুলের বডিতে ব্যবহার করতে হবে। চুলের গোড়াতে ব্যবহার করার জন্য নয়। কারণ এটা শ্যাম্পু নয় যে চুলের গোড়াতেও দিবেন।

অনেকে শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দেন। এটা আসলে ভুল একটি ধারনা। কন্ডিশনার লাগানোর পরে এক-দেড় মিনিটের মধ্যে ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করবেন।

ভেজা চুলে চিরুনির ব্যাবহারঃ চুল শুকিয়ে গেলে চুলে জট লাগার ভয়ে অনেকে গোসলের পর পরেই চুল ভেজা অবস্থাতেই মাথা আঁচড়াতে থাকেন। এটা কখনোই করা যাবেনা। কারন গোসলের সময় চুলে পানি পড়ায় চুলের গোঁড়া নরম হয়ে থাকে। ফলে সামান্য টানেই চিরুনির সাথে চলে আসে। তাই চুল শুকানোর পর আঙ্গুল ঢুকিয়ে ঢুকিয়ে চুলের জট ছাড়িয়ে মাথা আঁচড়ালে চুল পড়া অনেকটাই রোধ করা সম্ভব। 

চুলে সঠিক তেলের ব্যাবহারঃ আমরা অনেক সময় সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের চটকদার বিজ্ঞাপন দেকে আকৃষ্ট হই। তারপর চুলে সেসব তেল ব্যাবহার করতে থাকি। দেখা গেল একপদ ব্যাবহারে রেজাল্ট আশানুরূপ না হওয়ায় পুনরায় অন্য আরেকটি নিয়ে আসি। এটাও একটা চুল পড়ার কারণ।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় চুল পড়া না কমে বরং চুল আরও বেশী করে ঝড়তে শুরু করে। এভাবে না বুঝে না জেনে কোন ধরনের তেল ব্যাবহার না করে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে চুল পড়ার কারণ সম্পর্কে ভাল করে জেনে নিয়ে সঠিক তেল ব্যাবহার করলে আপনার চুল পড়া কমাতে পারবেন।

চুল কালার করলেঃ আমাদের চুলের ন্যাচারাল যে কালারটি সৃষ্টিকর্তা আপনাকে দিয়েছেন সেই কালারটাই সবচাইতে সুন্দর। অনেকে পোশাক আসাকের সাথে ম্যাচিং করতে গিয়ে বা কখনও শখের বসে। আবার কোন একজন আর্টিস্টকে ফলো করে চুলে কালার করে চুলের রং পরিবর্তন করেন।

এসব কেমিক্যাল মিস্রিত উপাদান চুলে ব্যাবহারের ফলে চুলের স্ক্যাল্পের মারাত্মক ক্ষতি হয়। যার ফলশ্রুতিতে চুল পড়তে থাকে। অনেক সময় মাথার ত্বকে এলারজি দেখা দিতে পারে। তাই চুলে কালার করতে সাবধান হতে হবে। প্রয়োজনে ভাল ব্র্যান্ডের হেয়ার কালার ব্যাবহার করবেন। কিনার আগে যাচাই করে নিবেন যেন এর মধ্যে কোন ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিস্রিত আছে কিনা।

আপনার চুল মাত্র এক মাসে লম্বা আর ঘন করতে চাইলে পড়ুনঃ দ্রুত চুল লম্বা করার উপায়  

হট অয়েল ম্যাসেজঃ আপনার চুল পড়ার কারণ আরেকটি হল নিয়মিত চুলে তেল না দেয়া। অবশ্যই সপ্তাহে অন্তত একদিন বা দুইদিন চুলে তেল দিতে হবে। তবে তেলটা কিছুটা গরম করে তারপর মাথায় দিবেন। এটা এক ধরনের হেয়ার ট্রিটমেন্ট। হট অয়েল মেসেজ করলে আপনার মাথার চুলের গোড়াতে জমে থাকা ময়লাগুলো বেরিয়ে আসবে। চুলের গোঁড়া মজবুত হবে এবং চুলের গ্রোথ ভালো হবে।

টক দই ও আমলার হেয়ার প্যাকঃ চুল পড়া রোধে এই দুটি হেয়ার প্যাক দারুন কাজ করে। আপনি যদি টক দইয়ের সাথে আমলা প্যাক মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করেন তাহলে আপনার চুল পড়া অনেক কমে যাবে। আর ভালো উপকার পেতে হলে এভাবে নিয়ম করে টানা তিন মাস আপনাকে এই প্যাকটি ব্যবহার করতে হবে।

আমলা প্যাকটি ব্যবহারের ফলে অনেক সময় কারও চুল শক্ত আর খসখসে হয়ে যেতে পারে। তখন টক দইয়ের সাথে পাকা কলা ও পাকা পেঁপে ব্লেন্ড করে চুলে লাগালে সেই শক্ত আর খসখসে ভাবটা আর থাকবে না। আপনার চুল পড়া কমে যাবে ও চুল অনেক পুষ্টি পাবে।

সবচাইতে বড় বিষয় হলো আপনি যত ট্রিটমেন্টই নিন না কেন আপনি যদি আপনার চুলের প্রতি ও স্ক্যাল্পের প্রতি বিশেষ যত্নবান না হন। অথবা আলাদা কেয়ার না করেন তাহলে কিন্তু কোনো ভালো ফল পাবেন না। চুলের পরিবেশ হলো চুলের সঠিক যত্ন। আজে বাজে হেয়ার প্যাক চুলে ব্যাবহার করা থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজনে একজন ভাল বিউটি এক্সপার্টের পরামর্শ নিন। তাহলেই আপনি চুল পড়া থেকে নিজেকে রেহাই দিতে পারবেন।

পূর্ববর্তী আর্টিকেলশিশুর ওজন বৃদ্ধি ও শিশু দ্রুত লম্বা হবে যে খাবারগুলো খেলে
পরবর্তী আর্টিকেলত্বকের সৌন্দর্য এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আপেল খাওয়ার উপকারিতা

একটি মন্তব্য করুন

এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহপূর্বক আপনার নাম লিখুন