খুশকি দূর করার উপায় ঘরে বসে মাত্র একবার ব্যাবহারেই

719
খুশকি দূর করার উপায়

খুশকি দূর করার উপায় জানুন ঘরে বসে মাত্র একবার ব্যাবহারেই। নারীর সৌন্দর্যের বড় একটা অংশই হল দীঘল কাল ঝলমলে উজ্জ্বল সুন্দর চুল। আর এই চুলের কারনেই মেয়েদেরকে সুন্দর লাগে সবচাইতে বেশি।

কিন্তু খুশকির কারনে সেই চুলকে আর সুন্দর রাখা যায়না। ফলে নারী হারায় তার চুলের সকল সৌন্দর্য। আর চুল হারায় তার পুষ্টি এবং এভাবে ধীরে ধীরে চুল ড্যামেজ হয়ে যেতে থাকে ।

আবার কখনও কখনও চুলে খুশকির পরিমান এতটাই বেশী হয়ে যায় যে, চুলের গোঁড়ায় চুলকানির সৃষ্টি হয়। এবং খুশকির গুঁড়া কাপড়ে পড়ে নিজের সহ অন্যদের সমস্যা সৃষ্টি করে। যা আপনার পারসনালিটিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।

শীতকালে শুষ্ক আবহাওয়া ও অতিরিক্ত ধুলাবালির কারনে মাথায় খুশকির সমস্যা বেশী দেখা যায়। তবে আবহাওয়া ক্রমশ পরিবর্তনের ফলে ও অত্যধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে খুশকির প্রবণতা দেখা যায়। তাছাড়া যাদের চুল বেশী তৈলাক্ত থাকে তারাও এই সমস্যায় ভুগেন। অনেকের আবার দেখা যায় শরীর প্রচণ্ড ঘামে।

প্রকৃতপক্ষে খুশকি জিনিসটা কি? সহজ কথায় বলতে গেলে, আমাদের মাথার ত্বকে এক ধরনের ছত্রাক জন্ম নিয়ে চুলের গোড়ায় জমাট বেঁধে বাস করতে থাকে এবং ধীরে ধীরে তা বেড়ে একটা আবরণ পড়ে থাকে। মূলত এটাই খুশকি। সেই সাথে মাথার চুলের গোঁড়ায় ঘাম শুকিয়ে গিয়ে ফাঙ্গাস পড়ে খুশকির সৃষ্টি করে।

তাই খুশকি দূর করার উপায় খুঁজতে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের এন্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যাবহার করেন। কিন্তু আপনি জানেন কি? এই সমস্ত শ্যাম্পু অনেক ধরনের কেমিক্যাল ব্যাবহার করে তৈরি করা হয়। যা সবার চুলে সমান ভাবে কাজ নাও করতে পারে।

তাই আমি আপনাদেরকে সাজেষ্ট করব। কিভাবে ঘরে বসে সম্পূর্ণ ন্যাচারাল ওয়েতে আপনি আপনার চুলের সমস্ত খুশকি দূর করতে পারেন। তাও আবার মাত্র একবার ব্যাবহার করে। আমাদের হাতের কাছে থাকা কিছু উপাদান দয়েই আমরা চুলের খুশকির যন্ত্রনা হতে চিরতরে খুব সহজেই মুক্তি পেতে পারি।

নিচে পয়েন্ট আকারে সুন্দর করে বর্ণনা করা হয়েছে। আপনার চুল ও ত্বকের ধরন অনুযায়ী যে কোন একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে দেখুন। আশা করি খুশকির যন্ত্রনা হতে চিরতরে মুক্তি পেয়ে যাবেন।

চলুন যেনে নেই খুশকি দূর করার উপায়। কিভাবে ঘরোয়া ভাবে মাত্র একবার ব্যাবহারে আপনি আপনার চুল থেকে সমস্ত খুশকি চিরদিনের জন্য দূর করতে পারবেন।

১। শসাঃ শসা ত্বকের যত্নে যেমন উপকারী তেমনি চুলের খুশকি সহ চুলের যত্নেও সমান কাজ করে। শসায় রয়েছে প্রচুর পরিমানে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফাইবার যা চুলের পরিচর্যায় সাহায্য করে চুলের সৌন্দর্য ধরে রাখে।

ব্যাবহার প্রণালীঃ প্রথমে কচি দেখে দুইটি শসা নিয়ে সেগুলোকে ছোট ছোট করে কেটে ব্লেন্ডারে দিয়ে ব্লেন্ড করে পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর আলাদা একটি পাত্রের মধ্যে পেস্ট হতে শসার সমস্ত রসটুকু ছেকে আলাদা করে নিতে হবে। এখন এই শসার রসের সাথে ৩-৪ চা চামুচ লেবুর রস ভালকরে মিশিয়ে নিতে হবে।

তারপর এই মিশ্রণটির মধ্যে তুলা চুবিয়ে রস চুলের গোঁড়ায় ম্যাসেজ করে লাগাতে হবে। এভাবে মিশ্রণটি আপনার সমস্ত চুলের মধ্যে লাগিয়ে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে যেকোনো শ্যাম্পুতে চুল ধুয়ে ফেলুন।

চুলের এই খুশকি দূর করার উপায় টি নিয়ম করে সপ্তাহে মাত্র দুই বার ব্যাবহার করলেই আপনার মাথা থেকে খুশকি সম্পূর্ণরূপে চিরতরে দূর হয়ে যাবে। আর চুলও ফিরে পাবে তার হারানো সৌন্দর্য। ভাল ফল পেতে এই পদ্ধতিটি একটানা দুই সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যাবহার করুন।

২। তেঁতুলঃ চুলের খুশকি দূর করতে তেঁতুলের ব্যাবহার একটি পুরানো পদ্ধতি। অনেকদিন আগের পুরানো তেঁতুল পানিতে গুলিয়ে সেই তেঁতুলের পানিটা ছেকে নিয়ে চুলের গোঁড়ায় ভালকরে লাগাতে হবে। তারপর পনের মিনিট অপেক্ষা করে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে দুই দিন তেঁতুলের পানি মাথায় ব্যাবহার করলে চুলের খুশকি সম্পূর্ণ দূর যাবে।

৩। টক দইঃ চুল ঝলমলে নরম আর খুশকি দূর করতে টক দই খুবই কার্যকরী। প্রথমে ৫-৬ চামুচ সাদা টক দই এর সাথে দুই চামুচ মেহেদীর পেস্ট ভালকরে মিশিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণটি তৈরি করা হয়ে গেলে চুলের গোঁড়া সহ পুরো চুলের মধ্যে ঘষে ঘষে ভালকরে লাগাতে হবে।

এখন মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে আধাঘণ্টা অপেক্ষা করে আপনার রেগুলার শ্যাম্পু দ্বারা চুল ধুয়ে ফেলুন। এই মিশ্রণটি সপ্তাহে মাত্র একদিন ব্যাবহারেই আপনার চুল থেকে খুশকি সম্পূর্ণরূপে দূর হয়ে যাবে। আর আপনার চুল হবে চকচকে মসৃণ ও সুন্দর।

৪। ডিম ও টক দইঃ চুলে খুশকি দূর করার উপায় হিসাবে ডিমের ব্যাবহার। ডিমের মধ্যে বিদ্যমান ভিটামিন ও পুষ্টি চুল হতে খুশকি সম্পূর্ণরূপে দূর করতে অত্যন্ত ভাল কাজ করে। আপনার চুলের খুশকি দূর করতে ডিমের সাদা অংশের সাথে চার চামুচ সাদা টক দই মিশিয়ে (দইটা ভালকরে ফেটিয়ে নিতে হবে) তার মধ্যে এক চামুচ লেবুর রস দিয়ে দিতে হবে।

এবার সবগুলো উপাদান ভালকরে আরেকবার মিশিয়ে নিন। তারপর মাথার তালু সহ সম্পূর্ণ চুলে ভালকরে লাগিয়ে আধাঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তারপর যে কোনো একটি শ্যাম্পু দ্বারা চুল সুন্দর করে ধুয়ে পরিস্কার করে ফেলুন।

Note: যেহেতু আমারা এই মিশ্রণটি বানাতে ডিম ব্যাবহার করেছি। তাই চুলে কিছুটা ডিমের গন্ধ করবে। ফলে শ্যাম্পু করার সময় চুল ভালকরে ধুতে হবে। যাতে চুলে ডিমের কোন রকম গন্ধ না থাকে।

চিরতরে মাথা থেকে খুশকি দূর করার উপায় হিসাবে এই মিশ্রণটি সপ্তাহে মাত্র একবার গোসলের আগে ব্যাবহার করুন। আশাকরি উপকার পাবেন।

৫। মেথিঃ প্রাচিন কাল হতে চুলের বৃদ্ধি, চুল পড়া বন্ধ সহ চুলের যত্নে মেথির ব্যাবহার হয়ে আসছে। কারন মেথিতে আছে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন, আয়রন, পটাশিয়াম সহ অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন।

তাই প্রথমে একটি বাটিতে দুই চামুচ মেথি নিয়ে তার সাথে দুই চামুচ খাঁটি নারিকেল তেল গরম করে ভালকরে মিশিয়ে নিন। মিশানো হয়ে গেলে আপনার মাথা সহ সম্পূর্ণ চুলে ভালকরে আঙ্গুল দিয়ে সেকশান করে করে লাগান। লাগানো শেষে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।

এই মিশ্রণটি আপনি এক সপ্তাহে মাত্র তিন বার ব্যাবহার করলেই পেয়ে যাবেন খুশকি মুক্ত সুন্দর ঝলমলে সিল্কি চুল।

এছাড়া আপনি চাইলে শুধুমাত্র মেথি দানা গুড়া করে নিতে পারেন। তারপর সেটা আগের দিন রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেই পানিটা সপ্তাহে দুবার চুলে দিলেও ভাল ফল পাওয়া যায়। তবে চুলে মেথি ব্যাবহার করলে চুলে আর শ্যাম্পু করার প্রয়োজন পড়ে না।

৬। অলিভ অয়েলঃ শুধু ত্বকের সুরক্ষাই নয়। ত্বক সহ চুলের পুষ্টি ধরে রাখতে ও চুল হতে খুশকি দূর করার উপায় হিসাবে অলিভ অয়েলের কোন জুড়ি নাই। তাই একটি পাত্রে কিছুটা গরম অলিভ অয়েল তেল নিয়ে এর সাথে লেবুর রস মিশিয়ে চুলে ব্যাবহার করুন। তাহলে চুল হতে সমস্ত খুশকি সহ চুলের গোঁড়ায় অন্যান্য ছত্রাকের আক্রমণও সম্পূর্ণ দূর হয়ে যাবে।

আর সাথে সাথে আপনার চুলও অনেক কোমল মসৃণ ও ঝলমলে হয়ে যাবে। নিয়ম করে সপ্তাহে অন্তত দুইবার চুলে অলিভ অয়েল তেলের এই মিশ্রণটি ব্যাবহার করুন।

৭। পেঁয়াজের রসঃ চুলের যত্নে পেঁয়াজের রস খুবই উপকারী। ত্বকের কাল দাগ দূর করা থেকে শুরু করে পেঁয়াজের রস চুল পড়া রোধ করা, নতুন চুল গজানো, দ্রুত চুলের গোঁড়ায় জমাট বাঁধা খুশকি দূর করতে ও চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

কারন পেঁয়াজে আছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক, আছে অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টি বায়োটিক কেমিক্যাল উপাদান। যা ত্বক সহ চুলের বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করে। আরও আছে প্রোটিন, ভিটামিন এ, বি ও সি।

ব্যাবহার প্রণালীঃ প্রথমে একটি বা দুইটি পেয়াজ ছোট ছোট টুকরা করে কেটে ব্লেন্ডারে দিয়ে ব্লেন্ড করে পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর আলাদা একটি পাত্রের মধ্যে পেস্ট হতে পেঁয়াজের সমস্ত রসটুকু ছেকে আলাদা করে নিতে হবে।

এখন এই রসগুলো আঙ্গুলের সাহায্যে মাথার সমস্ত চুল সহ চুলের গোঁড়ায় ভাল করে ঘষে ঘষে লাগাতে হবে। এভাবে আধাঘণ্টা রেখে আপনার রেগুলার শ্যাম্পু দ্বারা চুল ধুয়ে ফেলুন। এতে করে চুলের খুশকি দূর হবার পাশাপাশি চুলের গোঁড়ার চুলকানিও চিরতরে ভাল হয়ে যাবে। তাই সপ্তাহে অন্তত দুবার চুলে পেঁয়াজের রস ব্যাবহার করুন।

৮। চিনি ও লেবুঃ দ্রুত চুলের খুশকি দূর করে খুব সহজে চুলের সিল্কি ভাব ফিরিয়ে আনতে এই দুইটি উপাদানের মিশ্রণ খুব ভাল কাজ করে। অনেক বিউটি এক্সপার্টরা খুশকি দূর করার উপায় হিসাবে এই মিশ্রণটি চুলে এপ্লাই করতে সাজেষ্ট করে থাকেন।

ব্যাবহার প্রণালীঃ মিশ্রণটি তৈরি করতে একটি পাত্রে দেড় চামুচ লেবুর রস নিয়ে তার মধ্যে আধা চামুচ চিনি মিশিয়ে গুলিয়ে নিন। এখন এর মধ্যে দুটি এন্টি ড্যানড্রাফ এর মিনিপেক শ্যাম্পু ঢেলে ভালকরে মিশিয়ে নিতে হবে। মেশানো হয়ে গেলে মিশ্রণটি গোসলের আগে মাথার চুলে তেল দেয়ার মত করে ভালকরে লাগিয়ে বিশ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর সুন্দর করে চুল ধুয়ে ফেলুন।

এই মিশ্রণটি এতটাই ফলদায়ক যে মাত্র একবার চুলে ব্যাবহার করলেই সাথে সাথে আপনার চুলের সমস্ত খুশকি দূর হয়ে চুল হবে আরও সুন্দর আর সিল্কি

৯। নিমপাতাঃ খুশকি দূর করার উপায় এ নিম পাতার ভূমিকা অতুলনীয়। কারণ নিমপাতায় রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ও উচ্চমাত্রার ফ্যাটি এসিড। এটি মাথার ত্বককে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে মাথার ত্বককে ভালো রাখে। প্রাচীনকাল থেকেই চুলের সঠিক পুষ্টি ও সুরক্ষায় অনেকে নিয়মিত নিম তেল ব্যবহার করে থাকেন।

ব্যবহার প্রণালীঃ প্রথমে একমুঠ নিম পাতা নিয়ে পাটায় পিষে থেঁত করে পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। এখন এই নিম পাতার পেস্ট এর মধ্যে চার চামচ অলিভ অয়েল ভাল করে মিশিয়ে একটি হেয়ার প্যাক তৈরি করুন। এখন এই হেয়ার প্যাক টি গোসলের এক ঘন্টা আগে আপনার চুলের গোড়ায় লাগিয়ে রাখুন। তারপর গোসলের সময় ধুয়ে ফেলুন।

চাকরিজীবীরা এই প্যাকটি রাতে মাথায় দিয়ে শুয়ে পড়তে পারেন। এবং সকালে গোসলের সময় ধুয়ে ফেলবেন। এটি আপনি সপ্তাহে এক দিন পর পর অর্থাৎ তিন থেকে চারদিন ব্যবহার করুন। তাহলে মাথার খুশকি থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পেয়ে যাবেন।

১০। রসুনঃ পেটের অসুখ নিরাময়ের থেকে শুরু করে চুলের খুশকি দূর করার উপায় হিসাবে বা ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ রোধ করতে ও রসুনের ভূমিকা অপরিসীম। কারণ রসুনে আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রণ, জিংক, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন সি সহ আরও অনেক উপাদান।

ব্যবহার প্রণালীঃ কয়েক টুকরা রসুনের কোয়া কে পেস্ট করে তার সাথে এক চামচ মধু ভালো করে মিশিয়ে সুন্দর একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এখন এই মিশ্রণটি আপনার মাথার ত্বকে ঢেলে দিয়ে ভালো করে ম্যাসেজ করুন। তারপর পনের থেকে বিশ মিনিট পর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন।

খুশকি দূর করার উপায় হিসাবে রসুনের এই মিশ্রণটি আপনি চুলে সপ্তাহে মাত্র দুই দিন ব্যবহার করবেন। তাহলেই আপনার চুলের সমস্ত খুশকি সম্পূর্ণরূপে দূর হয়ে যাবে।

১১। আমলকিঃ চুলের পরিচর্যায় আমলকি অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। আমলকিতে থাকা প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন- সি। যা চুলের বৃদ্ধি থেকে শুরু করে মাথার ত্বকের সুরক্ষায় সাহায্য করে। এতে আছে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক ধ্বংসকারী উপাদান। আমলকি মাথার স্কেল্প কে আর্দ্রতা প্রদানে সহায়তা করে। তাই খুশকি দূর করার উপায় হিসাবে আমলকীর সঠিক ব্যাবহার বর্ণনা করা হল।

ব্যবহার প্রণালীঃ কয়েকটি কাঁচা আমলকি কে থেতলিএ পেস্ট বানিয়ে তার সাথে এক চামচ খাঁটি নারিকেল তেল মিশিয়ে ভালো করে নেড়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। এখন এই প্যাকটি আপনার চুলের গোড়া থেকে শুরু করে সমস্ত চুলে আংগুল দিয়ে ভাল করে লাগিয়ে নিন।

আধা ঘন্টা পর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করে ফেলুন। খুশকি দূর করার উপায় হিসাবে এই মিশ্রণটি আপনি চুলে লাগান। আর চুলে মাত্র এক সপ্তাহ ব্যবহারেই আপনার চুলের সমস্ত খুশকি সম্পূর্ণরূপে দূর হয়ে যাবে।

খুশকি দূর করার উপায় ও চুলের সঠিক যত্নে কিছু পরামর্শঃ

নিয়মিত চুল আঁচড়াতে হবে ও সবসময় চুল পরিপাটী করে রাখতে হবে। কারন আপনার সৌন্দর্যকে পরিপূর্ণভাবে ফুটিয়ে তুলেই হল আপনার সুন্দর চুল। যার চুল যত সুন্দর দেখাবে তাকে দেখতেও ততটাই সুন্দর লাগবে।

বাইরে বেরুলে চুলে হিজাব ব্যাবহার করুন। এতেকরে বাইরের ধুলাবালির সাথে কোন রোগ জীবাণুও চুলে লাগবেনা। মনে রাখবেন অপরিচ্ছন্ন ও এলোমেলো ও অযত্নে থাকা চুলেই খুশকি বেশী হয়।

চুলে নিয়মিত খাঁটি নারিকেল তেল ব্যাবহার করুন। চুলে শাম্পু করার সময় ভাল একটি ব্রান্ডের এন্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যাবহার করুন। চেষ্টা করবেন সালফেট ফ্রী শ্যাম্পুটা ব্যাবহার করার জন্য।

অনেক সময় চর্ম রোগের জন্যও মাথায় খুশকির মত মনে হতে পারে। তাই মাথায় খুশকির পরিমান বেশী। অথবা কোনভাবেই সারাতে না পারলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেন। প্রয়োজনে আপনার লাইফ স্টাইলেও পরিবর্তন আনতে হবে। যতটা সম্ভব মানসিক টেনশন হতে বিরত থাকুন।

অনেকে পানি কম খান। যেটা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দেহের প্রত্যেকটি অঙ্গের জন্য প্রয়োজনীয় পানি দরকার হয়। তাই পরিমান মত পানি পান করুন।

আশাকরি উল্লেখিত খুশকি দূর করার উপায় সমূহ নিয়মিত ব্যাবহার করবেন। তাহলেই আপনার চুল হতে সমস্ত খুশকি চিরতরে দূর হয়ে যাবে।

পূর্ববর্তী আর্টিকেল১০০% খাঁটি এক্সট্রা ভার্জিন নারিকেল তেল তৈরির সিক্রেট টিপস
পরবর্তী আর্টিকেলচোখের নিচে কালো দাগ দূর করার সহজ ৫টি পদ্ধতি

১টি মন্তব্য

একটি মন্তব্য করুন

এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহপূর্বক আপনার নাম লিখুন