ওজন কমানোর উপায় জেনে নিন। Technic of weight loss tips

273
ওজন কমানোর উপায়

ওজন কমানোর উপায় অনেকেই জানতে চান। কিন্তু আপনি কিভাবে সেটা শুরু করবেন বুঝতে পারেন না। শরীরের এই ওজন বাড়ানো আর কমানো নিয়ে আমাদের মধ্যে দুশ্চিন্তার কোন শেষ নেই।

একদিকে কেউ চান তাঁর ওজনটা একটু বাড়াতে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এই প্রবনতাটা একটু বেশি থাকতে দেখা যায়। অন্য দিকে কারও ওজন এতটাই বেশী যে কিভাবে ওজন কমাবেন সেটা নিয়ে টেনশন করেন।

আবার সমাজে এমন অনেকেই আছেন যারা চান সবসময় তাদের শরীরের ওজন টা স্বাভাবিক থাকুক। ওজন কম থাকুক সবসময়। কিছুতেই যেন ওজনটা না বাড়ে। কিন্তু কোনো কিছুতেই যখন আপনার শরীরের ওজন কে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেন না। অর্থাৎ আপনার স্বাভাবিক ওজনের চেয়ে অস্বাবাভিক ভাবে ওজন বেড়েই চলেছে। তখন অনেকেই কিন্তু একটা ভুল করে ফেলেন। সেটা হলো নিজে নিজে ডায়েট করা শুরু করে দেয়া।

ওজন কমানোর উপায় সম্পর্কে আপনাকে অনেকেই অনেক রকম ভাবে পরামর্শ দিবে। সেক্ষেত্রে আপনি কার পরামর্শ গ্রহণ করবেন? তাই ওজন কমাতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ সবসময় যে পরামর্শ দিয়ে থাকেন সেটা হল আপনার লাইফ স্টাইলে পরিবর্তন আনা।

এই ওজন কমানোর প্রধান ওষুধ হল সঠিক নিয়মে ডায়েট করা। ওজন কমানোর উপায় হিসাবে এটাই হবে প্রকৃত ব্যালেন্স ডায়েট। অর্থাৎ আপনার শরীরে পুষ্টি মিনারেল ভিটামিন’স  সবই থাকবে কিন্তু আপনার ওজন বাড়বে না। এটাই হলো প্রকৃত ডায়েট কন্ট্রোল।

অনেকে করেন কি প্রথমেই ভাত খাওয়া বন্ধ করে দেন। এতে করে আপনার শরীরে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ অতিমাত্রায় কমে যায় বা বন্ধ হয়ে যায়। শরীরে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমে যাওয়া কিন্তু ক্ষতিকর। এভাবে সাত-পাঁচ না ভেবে ডায়েট শুরু করা মোটেই ঠিক না।

ওজন কমানোর উপায় হিসাবে আপনার করণীয় হল প্রথমেই আপনাকে একটি মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। আপনি ওজন কমাতে চান সেই মাইন্ডটা সেট করতে হবে আগে। তাহলে আপনি ডায়েট কন্ট্রোলটা সুন্দর ভাবে পালন করতে পারবেন।

সঠিক ভাবে প্ল্যানিং না করে ডায়েট শুরু করায় অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আবার অনেকে ডায়েট করা ছেড়েও দেন। এটা মোটেই করা যাবে না। আর সেটা হবে আপনার স্বাস্থ্যের জন্যও অনেক ক্ষতিকর।

আবার দেখা যায় কিছুদিন ডায়েট করে ওজন কমালেন ঠিকই। কিন্তু ডায়েট করা হঠাৎ করে ছেড়ে দিলে আপনি এতদিনে যতটুকু ওজন কমিয়েছেন তার থেকে ওজন আরো বেড়ে যায়। তখন ওজন কমানোর উপায় টি কোন কাজেই আসবে না।

তাই ওজন কমানোর উপায় বলতে প্রথমেই আপনি একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করুন। অর্থাৎ এখন আপনার ওজন কতখানি আছে। আর ডায়েট করে আপনি কতখানি ওজন কমাতে চান। যেমন- আপনি নির্ধারণ করলেন আপনার ওজন ৮ থেকে ১০ কেজি কমাতে চান।

তাহলে সঠিক নিয়ম হলো আপনাকে একজন দক্ষ এক্সপার্ট এর শরণাপন্ন হতে হবে। তাঁর তত্ত্বাবধানে থেকে তাঁর দিক নির্দেশনা সমূহ মেনে ডায়েট করা। আবার অনেকে আছেন সহজে ডাক্তারের কাছে যেতে চান না অথবা যেতে সময় পান না।

তাদের উদ্দেশ্যে সঠিক পরামর্শ হলো, প্রথমে আপনার মানসিক মনোবল কে দৃঢ় করুন। তারপর ডায়েট করা আরম্ভ করুন। তাইবলে আবার ঘনঘন আপনার ওজন মেপে দেখতে যাবেন না। এটা কিন্তু মারাত্মক একটি ভুল। অনেকেই এটা করে থাকেন।

দেখা গেল একদিকে আপনি ডায়েট করা শুরু করলেন। অপরদিকে কিছুক্ষণ পরপর গিয়ে ওজন মেপে দেখছেন যে কমলো কিনা। এভাবে নিজের ওজন মাপার ফলে আপনার মনোবল কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারন ওজন কখনও দ্রুত কমেনা। প্রত্যেকটি জিনিসেরই মানসিক দুর্বলতা হচ্ছে সবচাইতে বড় একটা ফ্যাক্টর। দ্রুত ওজন কমানোর উপায় হিসাবে এটা কখনই করা যাবে না।

এবার আসুন শারীরিক ফিটনেসের বিষয়। এটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ আপনি নিজের দিকে আগে ভালো করে লক্ষ্য করে দেখুন। আর খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন কেন আপনার ওজন বাড়লো। কবে থেকে আপনার ওজন বাড়ার শুরু হলো। এভাবে ওজন বাড়ার ফলে আপনার শারীরিক কোনো ক্ষতি হচ্ছে কিনা।

এটা যাচাই করার জন্য অবশ্যই আপনাকে একজন ভালো ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। সেই ডাক্তার আপনাকে প্রথমে কিছু টেস্ট করতে দিবেন। তারপর সেই টেস্ট রেজাল্টই বলে দিবে আপনার ওজন বাড়ার মূল কারণ। তখন সেই টেস্টের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ডাক্তার সাহেব আপনার ডায়েটিং প্ল্যান তৈরি করবেন।

টেস্টগুলো চাইলে আপনি নিজেও করাতে পারেন। যেমন- আপনার শরীরে রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমান কেমন, কোলেস্টরেলের মাত্রা কতটুকু আছে, ডায়াবেটিস আছে কি না বা নেই, থাইরয়েড আছে কিনা অথবা থাকলেও এর মাত্রা কতটুকু আছে ইত্যাদি। আপনার শরীরে এই সমস্ত বিষয়গুলোর তারতম্য কম বা বেশি হবার কারণেই ওজন বেড়ে থাকে।

আবার আপনার বয়স যদি ৪০ এর উপরে হয়ে থাকে তাহলে টেস্টগুলোর সাথে সাথে লিভার ও কিডনির টেস্টও করাটা জরুরী। এই সমস্ত টেস্টগুলো করালে আপনার ডায়েটিং পারফেক্ট ডায়েট হবে। তখন আপনি জানতে পারবেন বা বুঝতে পারবেন আপনি কিভাবে ও কখন থেকে ডায়েট করা শুরু করবেন।

ওজন কমানোর উপায় হিসাবে অনেকে নিজে নিজে ডায়েট করতে গিয়ে প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়া শুরু করে দেন। অপরদিকে ভাত খাওয়া কমিয়ে দেন। অর্থাৎ কার্বোহাইড্রেট এর মাত্রা কমিয়ে দেওয়া। এতে করে কিডনিতে ইফেক্ট দেখা দিতে পারে। তাই ডায়েটের সময় সবকিছুরই একটা সঠিক ব্যালেন্স থাকতে হবে।

ওজন বেড়ে যাবার ভয়ে অনেক সময় অনেকে হেলদি খাবার গুলো খাওয়া বন্ধ করে দেয়। যেমন- সয়াবিন তেল না খাওয়া। সয়াবিন তেল আমাদের শরীরের সঠিক পুষ্টি বজায় রাখে। অনেকে মনে করে তেল খাওয়া বন্ধ করে দিলেই বুঝি ওজন কমে যাবে এটা সম্পূর্ণরূপে একটি ভুল ধারণা।

ওজন কমাতে গিয়ে রান্নার তেল বাদ দিয়ে পানি দিয়ে সিদ্ধ করে খাবার গ্রহণের ফলে আপনার ওজন হয়তো কমবে। কিন্তু আপনার স্কিন ও হাড়ের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার ভিটামিন- ডি এর মাত্রাও কমে যায়। তাই তেল খাওয়া একেবারে কমিয়ে না দিয়ে খেয়াল রাখতে হবে রান্নার সময় তেলের ব্যবহার যেন কম করে করা হয়। এছাড়া আপনি বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ তেল পরিমিত আকারে খেতে পারেন।

অনেকে খাবার কমিয়ে দিয়ে বাদাম, গ্রিন টি ইত্যাদি বেশি করে খাওয়া শুরু করে দেন। এটাও করা যাবে না। কারণ যে কোন হেলদি খাবার যদি আপনি অতি মাত্রায় খাওয়া শুরু করে দেন। তাহলে অবশ্যই আপনার কোনো না কোনোভাবে ক্ষতির কারণ হতে পারে। যেমন- বেশি করে গ্রিন টি খেলে আপনার নিয়মিত ঘুমের সমস্যা দেখা দিবে, শরীরে ইউরিনের প্রব্লেম হতে পারে, হাত পা জ্বালা-পোড়া করা ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিবে।

আবার অতিমাত্রায় পটাশিয়াম গ্রহণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর। যা গ্রিন টি’র মধ্যে রয়েছে। তাই গ্রীন টি আপনি দিনে দেড় থেকে দুই কাপ করে খেতে পারেন। আবার ক্ষুধা কমানোর জন্য অতিমাত্রায় বাদাম খেলেও শরীরের ক্ষতি হতে পারে। যেমন- শরীরে ইউরিক এসিডের মাত্রা কমে যেতে পারে।

বাদাম একটি ভাল মানের হেলদি খাবার। কিন্তু শুধু বাদাম না খেয়ে আপনাকে অনেকগুলো খাবার মিলিয়ে একটি হেলদি খাবার গ্রহণ করতে হবে। মানে আপনার খাবারের তালিকায় মাছ, মাংস, শাক-সব্জি, ফলমূল সবকিছুই থাকতে হবে।

ওজন কমানোর উপায় হিসাবে মূলত আপনাকে বাছাই করে করে খাবার গুলো আলাদা করে খেতে হবে। কোন প্রোটিন গুলো হেলদি সেগুলো বাছাই করে খেতে হবে। যেমন- ডিম, মাছ, ফ্যাট বিহীন দুধ, টক দই ইত্যাদি এগুলো হেলদি প্রোটিন। এগুলো আপনি যদি একটু ব্যালেন্স করে খেতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনি ওজন কমাতে পারবেন।

ওজন কমানোর উপায় হিসাবে আর্টিফিশিয়াল খাবার গ্রহনঃ

অনেকে দ্রুত ওজন কমাতে গিয়ে আর্টিফিশিয়াল ফুড বা আর্টিফিশিয়াল সুগার গ্রহণ করেন। সরাসরি চিনি খান না অথচ আর্টিফিশিয়ালী চিনি খান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে দ্রুত ওজন কমানোর বিজ্ঞাপন দেখে সেগুলোতে আকৃষ্ট হয়ে কখনও খেতে যাবেন না। এগুলো কখনোই করবেন না।

মনে রাখবেন, আর্টিফিশিয়াল শুধু আর্টিফিশিয়ালী হয়ে থাকে। ন্যাচারাল খাবার খেয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন। দ্রুত নয়, দীর্ঘমেয়াদি খাবার গ্রহণের মাধ্যমে ওজন কমাতে চেষ্টা করুন। ওজন কমানোর উপায় বলতে ব্যায়ামের কোন বিকল্প নেই। তাই নিয়মিত ব্যায়াম করবেন।

পূর্ববর্তী আর্টিকেলঘাড়ের কালো দাগ দূর করুন খুব সহজে মাত্র এক দিনের মধ্যে
পরবর্তী আর্টিকেলকরনা ভ্যাকসিন নিবন্ধন কিভাবে করবেন জেনে নিন

১টি মন্তব্য

একটি মন্তব্য করুন

এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহপূর্বক আপনার নাম লিখুন