Verification: 604f510ca357bb64

অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম

অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম। অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন প্রক্রিয়া কেমন। অনেকেই আছেন যারা মোটরসাইকেল কিংবা বেক্তিগত প্রাইভেটকার কেনার চিন্তা করছেন। আবার অনেকে শুধুমাত্র পেশা হিসেবেই ড্রাইভিং কে বেছে নিতে চাচ্ছেন। কিন্তু ড্রাইভিং না জানার কারণে কিনতে সাহস পাচ্ছেন না। সরকারি নিয়ম অনুসারে বাংলাদেশের যে কোন জায়গায় গাড়ি চালাতে হলে অবশ্যই আপনার বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে।

তাই এই ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি করতে হলে আপনাকে বিআরটিএ এর অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। কিন্তু অনেকের মধ্যে একটি ভ্রান্ত ধারণা হয়তোবা এটা রয়েছে যে, ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে গেলে দালাল ধরতেই হবে নচেৎ ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যাবে না। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি এখন বাংলাদেশ সরকার তার সমস্ত কিছুই এখন ডিজিটাল ভাবে সেবা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে একজন ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহীতা ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করে নিজের জন্য একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি করে নিতে পারেন।

তাই ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে এখন আর কোন রকম ঝামেলা পোহানোর সুযোগ নেই। চলুন তাহলে অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম জেনে নেই।

এজন্য প্রথমে আপনার হাতে থাকা মোবাইল বা কম্পিউটারের ইন্টারনেট ব্রাউজার টি ওপেন করে নিন। তারপর ব্রাউজারের এড্রেসবারে গিয়ে টাইপ করুন bsp.brta.gov.bd তারপর এন্টার করুন। অথবা বুঝতে কোন সমস্যা হলে এখানে ক্লিক করলেও বিআরটিএ এর সেবা বাতায়ন ওয়েব সাইটটির হোমপেইজ বা মুল ল্যান্ডিং পেজটি আপনার সামনে চলে আসবে। যা নিচের চিত্রের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে।

অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম-1

বিআরটিএ এর সেবা বাতায়ন ওয়েব সাইটটির হোমপেইজ বা মুল ল্যান্ডিং পেইজে আসার পরে এখন আপনার কাজ হলো সম্পূর্ণ পেইজটি ভালো করে একবার দেখে নিন কোথায় কি আছে। এখানে আপনি অনেকগুলো অপশন দেখতে পাবেন।

আমরা যেহেতু নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করছি। তাই এখানের বিভিন্ন অপশন এর মধ্যে বিশেষ করে ড্রাইভিং লাইসেন্স আইকনে ক্লিক করে (চিত্রে লাল তীর চিহ্নিত) এর সমস্ত নিয়মাবলীগুলো দেখে জেনে নিতে পারেন সবকিছু। তাহলে আপনার জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স বানাতে ও সংগ্রহ করতে সহজ হবে।

নতুন করে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম কি এবং কি কি কাগজপত্র লাগেঃ

একজন নতুন আবেদনকারীকে নতুন করে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে হলে প্রথমেই তাকে লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে হবে। তারপর মূল লাইসেন্স বা স্মার্টকার্ড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। আর বয়স হতে হবে অবশ্যই সর্বনিম্ন ১৮ বছর।

  • লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ নির্ধারিত আবেদন ফরমে আবেদন করতে হবে।
  • একজন এমবিবিএস বা রেজিস্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক মেডিকেল সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।
  • জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা পাসপোর্ট এর ফটোকপি সত্যায়িত করে দিতে হবে।
  • সদ্য তোলা ০৩ কপি স্ট্যাম্প সাইজ ছবি ও ০১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি জমা দিতে হবে।
  • ফি প্রদান করতে হবে। এই ফি দুই ধরনের রয়েছে। প্রথম ক্যাটাগরি অর্থাৎ হালকা যান (মোটরসাইকেল সহ) এর জন্য 345/- টাকা এবং দ্বিতীয় ক্যাটাগরি অর্থাৎ ভারী যানবাহনের জন্য 518/- টাকা বিআরটিএ কতৃক নির্ধারিত ব্যাংকে জমা দিয়ে জমা দানের রসিদ জমা দিতে হবে।

অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম হল একজন আবেদনকারী কে প্রথমে লার্নার কার্ড বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্যই উপরে দেয়া কাগজপত্রসহ আবেদন করতে হবে। তিনি যেই সার্কেল এর আন্ডারে থাকেন তাকে সেই সার্কেলের বিআরটিএ এর অফিসে গিয়ে জমা দিয়ে আসতে হবে। তখন সেই সার্কেল অফিস কর্তৃপক্ষ তাকে একটি শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করবে।

আরও পড়ুনঃ

যার মেয়াদ থাকবে তিন মাস পর্যন্ত। আর এটা দেয়া হবে সেই ব্যক্তিকে ড্রাইভিং এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য। এই সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষে সেই লার্নার কার্ডটি নিয়ে পুনরায় মূল ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। লিখিত পরীক্ষার তারিখ এবং সময় লার্নার কার্ডের মধ্যে আপনি পেয়ে যাবেন।

কিভাবে অনলাইনে নতুন একটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে এর জন্য আবেদন করবেনঃ

প্রথমেই বিআরটিএ এর সেবা বাতায়ন এর পেইজে গিয়ে  নিবন্ধন  মেনুতে ক্লিক করুন যা উপরে তীর চিহ্ন দ্বারা দেখানো হয়েছে। তাহলে নিচের চিত্রের ন্যায় নতুন একটি ফর্ম আসবে আপনার সামনে একাউন্ট নিবন্ধন করার জন্য।

আপনি যদি নতুন আবেদনকারী হয়ে থাকেন তাহলে চিত্রে দেখানো অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে আপনার জন্ম তারিখ এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে ডান পাশের অনুসন্ধানে বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনার নাম পরিচয় উল্লেখ পূর্বক আরেকটি ফর্ম চলে আসবে। এই ফর্মের মধ্যে আপনার মোবাইল নম্বর, ই মেইল (যদি থাকে) দিয়ে একটি স্ট্রং পাসওয়ার্ড সেট করে দিতে হবে। তারপর  নিবন্ধন করুন  বাটনে ক্লিক করতে হবে।

তাহলে আপনার মেইলে একটি কনফার্মেশন ম্যাসেজ চলে যাবে যা পরবর্তীতে আপনার মেইলে গিয়ে প্রবেশ করে মেইলটি ভেরিফাই করতে হবে। এরকম একটি মেইল আপনি পেয়ে থাকলে মেইল চেক করে কনফার্ম বা একটিভ করুন। অ্যাক্টিভ লিংকে ক্লিক করা মাত্রই আপনাকে আপনার ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দ্বারা পুনরায় লগিন করতে নিয়ে চলে যাবে ও লগিন করতে বলবে।

আপনি লগিন করলে পুনরায় আপনার পূর্বে দেয়া মোবাইল নম্বরে একটি OTP (One Time Password) Code বা সংখ্যা পাঠানো হবে। সেই সংখ্যাটি এখন এন্ট্রি দিয়ে ভেরিফাই এ ক্লিক করে লগিন করুন বা এণ্টার চাপুন। তাহলে আপনার নামে আলাদা একটি বিআরটিএ এর সেবা বাতায়ন নামে নতুন একটি পেজ চলে আসবে। যা নিচে চিত্রের সাহায্যে দেখানো হয়েছে।

এখানে বামপাশের মেনু  ড্রাইভিং লাইসেন্স ∨  (চিত্রে তীর চিহ্ন দিয়ে দেখানো হয়েছে) মেনুতে ক্লিক করে তার ভিতরের সাবমেনু  শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের জন্য আবেদন  লেখা মেনুতে ক্লিক করুন। তাহলে লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনের জন্য কি কি ডকুমেন্ট আপনাকে সংযুক্ত করতে হবে তার একটি লিস্ট (সাইজ সহ) দেখাবে।

আবেদন শুরু করার আগে আপনি সেই অনুযায়ী ডকুমেন্টগুলি সংগ্রহ করে সেগুলোর স্ক্যান কপি (প্রয়োজনীয় সাইজ করে) নিয়ে নিন। আপনি এই সবগুলো ডকুমেন্ট সংগ্রহ করেছেন এবং আপনি যদি লার্নার কার্ড নিতে আগ্রহী হন তাহলে  √আমি সম্মত  লেখা বাটনে ক্লিক করুন। মূলত এখান থেকেই আপনার আবেদনের মূল ধাপগুলি শুরু হবে। এখন একে একে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন অপশন আসতে থাকবে যা আপনাকে পড়ে ও দেখে সেগুলো সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। যেমন-

মূলত অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম হিসাবে প্রথমেই আসবে ড্রাইভিং লাইসেন্সে এর ধরণ নির্বাচন, আবেদনকারীর ছবি যুক্ত করুন এবং আইডি নম্বর ও জন্মতারিখ দেয়ার অপশন। এখানে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর ধরন (অপেশাদার / পেশাদার) ও আপনার নিজের একটি পরিস্কার ছবি (৩০০ X ৩০০ পিক্সেল এবং যার সাইজ হবে সর্বোচ্চ ১৫০ কেবি পর্যন্ত) যুক্ত করে ন্যাশনাল আইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ সেট করে  অনুসন্ধান  বাটনে ক্লিক করুন।

তাহলে পরের সেকশনে আরেকটি ফর্ম আসবে। এই ফর্মে অনেক কিছুই পূরণ করা অবস্থায় আপনি দেখতে পাবেন। আর যদি কিছু পূরণ করা বাকি থাকে তাহলে সেগুলো দেখে পূরণ করে দিতে হবে। মূলত এখানে আপনার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। এখানে প্রত্যেকটি ঘরের পাশে লাল রঙের স্টার চিহ্নিত ঘর গুলো আপনাকে অবশ্যই পূরণ করতে হবে।

যেমন- মোটর যানের শ্রেণী নির্বাচন করন। এখান থেকে আপনি মোটরসাইকেল অথবা হালকা (লাইট) (অথবা উভয়ের জন্যই একত্রে) যে কোনো একটি শ্রেণী নির্বাচন করে দিতে হবে। আপনার যদি মোটরসাইকেলের জন্য লাইসেন্স নেয়ার দরকার হয় তাহলে সেটির পাশের চেকবক্সটি নির্বাচন করে দিবেন। আর যদি আপনি মোটরসাইকেলের পাশাপাশি চার চাকার হালকা গাড়িও চালাতে পারেন অর্থাৎ এক লাইসেন্সেই দুটি কাজ করতে চান অর্থাৎ হালকা গাড়ি ও মোটরসাইকেল সহ যান চালাতে চান তাহলে দুটি অপশনই নির্বাচন করে দিবেন।

এক্ষেত্রে ফি এর কিছু পরিবর্তন হবে। অর্থাৎ একটু বেশি ফি জমা দিতে হবে আপনাকে। তারপর অন্য অপশন যেমন- পর্যায়ক্রমে পরীক্ষার স্থান নির্বাচন করুন। তারপর এক এক করে মেডিকেল সনদ সহ অন্যান্য ডকুমেন্টগুলো আপলোড করে যুক্ত করে দিন। সবগুলো তথ্য এবং ডকুমেন্ট যুক্ত করা শেষে নিচে  সংরক্ষণ করুন  বাটনে ক্লিক করুন।

তাহলে পেইজের উপরের দিকে LEARNER LICENSE SAVED SUCCESSFULLY লেখা টেক্সট শো করবে। এভাবে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সংরক্ষণ করুন বাটনে ক্লিক করে তথ্যগুলো সেভ করে রাখুন। তারপর ফি জমা দেওয়ার পালা। এজন্য  অনলাইন ফি জমা  দেয়ার বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে পুনরায় একটি ফি জমার ফর্ম আসবে।

এই ফর্মের নিচের দিকে কত টাকা আপনাকে জমা দিতে হবে তার পরিমাণ উল্লেখ করা থাকবে। এছাড়া আপনার পরীক্ষা গ্রহণের তারিখ, সময় ও পরীক্ষার স্থান উল্লেখ করা থাকবে। আপনি ফি জমা দিন বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে পেমেন্ট অপশনে চলে আসবেন। এখানে অনলাইনে প্রেমেন্ট এর জন্য বিভিন্ন নিয়ম ও অপশন দেয়া থাকবে।

অথবা আপনি চাইলে বিকাশ এর মাধ্যমেও পেমেন্ট করতে পারেন। হ্যাঁ, অনলাইনে এটাই পেমেন্ট করার জন্য সবচাইতে সহজ মাধ্যম। তাই আপনি বিকাশের মোবাইল নম্বরটি নির্বাচন করে বিকাশ অপশনটি নির্বাচন করে দিন। তারপর ফর্মের নিচের টার্মস এন্ড কন্ডিশন এর খালি ঘরটির চেকবক্স নির্বাচন করে দিয়ে  নিশ্চিত  লেখা বাটনে ক্লিক করুন।

তাহলে আপনাকে সাথে সাথে বিকাশের পেমেন্ট গেটওয়েতে নিয়ে চলে যাবে। এখানে আসার পর আপনার প্রয়োজনীয় পেমেন্টটি সমাপ্ত করুন। আর এভাবে আপনি আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রাথমিক লার্নার কার্ড সংগ্রহের আবেদনটি সম্পন্ন করা হয়ে গেল। আপনার পেমেন্ট সম্পন্ন হওয়া মাত্র আপনার মোবাইলে এবং বিআরটিএ এর ওয়েবসাইটে একটি বার্তা চলে আসবে।

এখন ওয়েবসাইট থেকে আপনি আপনার ড্রাইভিং লার্নার কার্ড ও মানি রিসিপ্টটি ডাউনলোড করে সংগ্রহ করে রাখতে পারবেন। এই লার্নার কার্ডটি প্রিন্ট করে আপনার গাড়ির কাগজপত্রের সাথে রাখুন। আর এভাবেই খুব সহজে আপনি ঘরে বসে অনলাইনে আবেদন করে মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে আপনার নিজের জন্য একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স বানিয়ে নিতে পারবেন। আশাকরি আপনারা অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম টি সহজে বুঝতে পেরেছেন।

Leave a Comment

error: Content is protected !!